ডিজেলে এখনো লিটারে ৭০ টাকা লোকসানে সরকার: রিজভী

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ডিজেল আমদানির ক্ষেত্রে সরকারের আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি সম্প্রতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য যখন অস্বাভাবিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী ছিল, তখন সরকারকে চড়া দামে ডিজেল সংগ্রহ করতে হয়েছিল। এই অতিরিক্ত আমদানিমূল্যের ফলে সরকারি কোষাগারে বেশ বড় ধরনের আর্থিক চাপের সৃষ্টি হয়, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

সম্প্রতি আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই প্রসঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন যে, আন্তর্জাতিক বাজারে যখন জ্বালানির চরম ঊর্ধ্বগতি বিরাজ করছিল, তখন দেশের চাহিদা মেটাতে সরকারকে প্রতি লিটার ডিজেল প্রায় ২০৫ টাকা খরচ করে আমদানি করতে হয়েছিল। কিন্তু দেশের বাজারে সেই জ্বালানি তুলনামূলক অনেক কম মূল্যে সরবরাহ করা হয়, যার ফলে সরকারের বিশাল অংকের আর্থিক লোকসান গুনতে হয়।

রিজভী আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন হলেও জ্বালানি খাতের পুরোনো সেই লোকসানের ধাক্কা পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। সরকারের নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনও ডিজেল প্রতি লিটারে প্রায় ৭০ টাকা করে লোকসানের মুখোমুখি হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই ভর্তুকি বা ঘাটতি কীভাবে সামাল দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা চলছে।

জ্বালানি আমদানির এই উচ্চ ব্যয় এবং দেশীয় বাজারে তার বিক্রয়মূল্যের মধ্যকার আকাশচুম্বী ফারাক দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। বিশ্ববাজারের এই চড়াই-উতরাই মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকারের নীতিনির্ধারকরা এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য বিকল্প কোনো কৌশল গ্রহণ করেন কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *