ডেঙ্গুর মৌসুমে মাল্টার বাজারে চড়া দাম

দেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলে ডেঙ্গুর সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে ফলমূলের চাহিদা নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। বিশেষ করে ডেঙ্গু রোগীদের দ্রুত সুস্থতার জন্য চিকিৎসকদের পরামর্শে ফলের তালিকায় মাল্টার চাহিদা এখন সবার শীর্ষে রয়েছে। আর এই বাড়তি চাহিদার সুযোগ নিয়েই রাজধানীর পাশাপাশি বন্দরনগরী চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন বাজারের ফলের আড়ত ও খুচরা দোকানে মাল্টার দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, প্রয়োজনীয় এই ফলটি কিনতে গিয়ে তাদের পকেট ফাঁকা হওয়ার উপক্রম হয়েছে কিন্তু বিক্রেতাদের কাছ থেকে কোনো সদুত্তর মিলছে না।

চট্টগ্রাম নগরের কদমতলী, স্টেশন রোড ও নিউমার্কেট এলাকার বিভিন্ন খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে যে, বাজারে আসা প্রতিটি দোকানেই মাল্টা সুন্দরভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। বিক্রেতারা ক্রেতাদের আকর্ষণের জন্য পিরামিডের মতো করে মাল্টা সাজিয়ে রাখলেও উচ্চমূল্যের কারণে অনেক সাধারণ ক্রেতা দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন। পাইকারি বাজার থেকে শুরু করে পাড়ার ছোট দোকানগুলোতেও এখন চড়া দামে মাল্টা বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে। ফল ব্যবসায়ীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন মাল্টা সাজানো ও খুচরা বিক্রির কাজে, যা বর্তমান বাজারের একটি চেনা দৃশ্যে পরিণত হয়েছে।

বাজারের বর্তমান দর পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, খুচরা বাজারে বিদেশি মাল্টা আকার ও মানভেদে প্রতি কেজি এখন চারশ আশি থেকে পাঁচশ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ মাত্র কিছুদিন আগেও এই ফলগুলো তুলনামূলক কম দামে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে ছিল। চাহিdan বৃদ্ধির এই সুযোগে আমদানিকৃত বিদেশি জাতের মাল্টার পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত দেশি মাল্টার দামও কিছুটা প্রভাবিত হয়েছে। তবে বাজারে দেশি মাল্টার দাম তুলনামূলক কম থাকায় অনেকে এখন বিকল্প হিসেবে দেশি ফলটি কেনার চেষ্টা করছেন।

খুচরা বাজারে দেশি মাল্টা প্রতি কেজি একশ বিশ থেকে একশ ত্রিশ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে। অনেক দোকানে বস্তা থেকে নামিয়ে দেশি মাল্টা ঝুড়িতে সাজিয়ে রাখা হচ্ছে অথবা ক্রেতাদের দেখানোর জন্য কেটে প্রদর্শন করা হচ্ছে। তা সত্ত্বেও সামগ্রিক বাজারে ফলের উচ্চমূল্যের কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের জন্য ডেঙ্গু রোগীর পুষ্টির চাহিদা মেটানো বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জরুরি এই স্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় ফলের বাজার নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে নজরদারি বাড়ানো উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *