ড. আবুল বারকাতের সম্পদের হিসাব চে‌য়ে‌ দুদকের নোটিশ

অস্বাভাবিক ও অবৈধ উপায়ে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগের মুখে পড়েছেন প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আবুল বারকাত। তার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে এবং তার প্রকৃত আর্থিক অবস্থার বিশদ বিবরণ জানতে আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিশ পাঠিয়েছে দেশের দুর্নীতি দমন কমিশন। দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এই বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

কমিশনের অনুসন্ধান দলের প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যেখানে ড. আবুল বারকাতের নিজ নামে এবং তার ওপর নির্ভরশীল অন্যান্য ব্যক্তিদের নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব চাওয়া হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট ফরমে এই সম্পদ বিবরণী কমিশনে দাখিল করতে হবে। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ পেয়েছে।

দেশের আর্থিক খাতের অন্যতম পরিচিত মুখ হিসেবে ড. আবুল বারকাত দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে অধ্যাপনা করার পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্টীয় ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের সময়ে নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্ত এবং তার সামগ্রিক কার্যকাল নিয়ে এর আগেও নানা মহলে নানা আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছিল। বর্তমান এই নতুন আইনি পদক্ষেপে তার দীর্ঘদিনের কর্মজীবন ও অর্জিত সম্পদের বিষয়গুলো নতুন করে তদন্তের আওতায় এল।

দুর্নীতি দমন কমিশন দেশের আর্থিক খাতের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে বিশেষ অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করছে, ড. বারকাতের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করা তারই একটি অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে। নোটিশ প্রাপ্তির পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তার পক্ষ থেকে সম্পদের হিসাব দুদক কার্যালয়ে দাখিল করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘটনার পর দেশের অর্থনীতি ও বুদ্ধিজীবী মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি এখন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *