তরুণ প্রজন্মের কেন দ্রুত ডিভোর্স হচ্ছে? একসঙ্গে থাকার উপায় জেনে নিন

লাইফস্টাইল ডেস্ক: সম্প্রতি দেশের একটি জনপ্রিয় তারকা জুটির বিচ্ছেদের খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে নানা আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে। অনেকেই এর জন্য তরুণ প্রজন্মের ধৈর্যহীনতা বা মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতার অভাবকে দায়ী করছেন। তবে মনোবিজ্ঞানীদের মতে, কোনো সম্পর্ক হুট করে বা বড় কোনো আঘাতের কারণে ভেঙে যায় না। বরং দীর্ঘদিনের জমে থাকা ছোট ছোট অবহেলা এবং না বলা কথার কারণেই মূলত বিবাহবিচ্ছেদের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন দম্পতিরা।

পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, শহুরে জীবনে দাম্পত্য কলহ ও বিচ্ছেদের হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, বিগত বছরগুলোতে বিবাহবিচ্ছেদের হার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছিল। বিশেষ করে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে প্রতি বছর হাজার হাজার তালাকের আবেদন জমা পড়ার ঘটনা প্রমাণ করে যে সম্পর্কের টানাপোড়েন এখন একটি গুরুতর সামাজিক বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে। তবে এই প্রবণতার পেছনে কেবল নৈতিক অবক্ষয় খোঁজা ভুল হবে, কারণ বর্তমানের নারীরা অনেক বেশি আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ায় অসুখী ও নিপীড়নমূলক সম্পর্ক আজীবন সহ্য করতে নারাজ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিয়ের আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধুর্য আর বাস্তব সংসারের দৈনন্দিন ক্লান্তিকর রুটিন সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। অফিসের কাজের চাপ, আর্থিক হিসাব-নিকাশ এবং দুই পরিবারের প্রত্যাশার চক্করে পড়ে অনেক দম্পতিই হাঁপিয়ে ওঠেন। এছাড়া সামাজিক মাধ্যমে অন্যদের সাজানো সংসার দেখে নিজেদের সাদামাটা জীবনকে ব্যর্থ মনে করা এবং সঙ্গীর কাছে অতিরিক্ত প্রত্যাশা রাখার মানসিকতা বর্তমান প্রজন্মের দাম্পত্য সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ছোটখাটো বিষয়ে পারস্পরিক যোগাযোগের অভাব এবং মতপার্থক্য দূর করার সঠিক কৌশলের ঘাটতি।

সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের দীর্ঘমেয়াদী গবেষণায় দেখা গেছে, বড় কোনো ঝগড়ার চেয়ে দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তের অবহেলাই একটি সম্পর্ককে ভেতর থেকে ফাঁকা করে দেয়। সঙ্গীর কোনো সাধারণ কথায় সাড়া না দেওয়া, মনঃসংযোগহীন থাকা কিংবা ঝগড়ার পর দীর্ঘ সময় কথা বন্ধ রাখার মতো ছোট অভ্যাসগুলোই দূরত্ব তৈরি করে। তাই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হলে বড় কোনো বিপ্লবের প্রয়োজন হয় না, বরং নিয়মিত মনোযোগ, পারস্পরিক সম্মান এবং প্রয়োজনে পেশাদার কাউন্সেলিংয়ের সাহায্য নেওয়ার মানসিকতা তৈরি করা জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *