তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে মারুবেনির প্রেসিডেন্ট, দ্বিতীয় কাফকো-এআই ডেটা সেন্টার নিয়ে আলোচনা

অর্থনীতি ডেস্ক: জাপানের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান মারুবেনি করপোরেশনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসায়ুকি ওমোতোর নেতৃত্বে এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং নতুন খাতের বিনিয়োগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে মূলত তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, সার উৎপাদন এবং জ্বালানি খাতে জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনাগুলো খতিয়ে দেখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের পাটজাত পণ্যের ব্যবসায় যুক্ত থাকা এই প্রতিষ্ঠানটি এখন দেশের উদীয়মান প্রযুক্তি খাতেও অংশীদার হতে গভীর আগ্রহ দেখিয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সক্ষমতা এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। দেশের প্রকৌশল খাতের স্নাতকদের তথ্যপ্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তা ক্ষেত্রে আরও দক্ষ ও যোগ্য করে তুলতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিযোগিতামূলক সেবার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ অচিরেই একটি অন্যতম প্রধান তথ্যপ্রযুক্তি সেবাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে বলে উভয়পক্ষ মত প্রকাশ করে। এছাড়া আগামী এক বছরের মধ্যে দেশে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক আধুনিক ডেটা সেন্টার বা তথ্যকেন্দ্র চালুর উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

বাংলাদেশের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির আধুনিকায়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়। কৃষি খাতে মারুবেনি করপোরেশন তাদের প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও বিনিয়োগ আরও বিস্তৃত করতে পারে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি, কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের বা কাফকোর বিদ্যমান ব্যবসায়িক পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি দেশে দ্বিতীয় আরেকটি কাফকো কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে উভয়পক্ষ ইতিবাচক আলোচনা করেছে। জাপানি এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশের প্রশংসা করে নতুন এসব প্রকল্পে অংশ নেওয়ার বিষয়ে জোরালো আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বিদেশি বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি মারুবেনি করপোরেশনের প্রতিনিধিদলকে দেশের সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে আরও বড় পরিসরে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি দ্রুত কার্যকর হলে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বেশি সুদৃঢ় হবে বলে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করে। বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং মারুবেনির আঞ্চলিক শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *