তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যেও ইইউর বাজারে জুতা রপ্তানিতে চমক

অর্থনীতি ডেস্ক: ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে চীনের সঙ্গে கடுமையான দামের প্রতিযোগিতার মুখে পড়লেও দেশের জুতা রপ্তানিতে বড় ধরনের চমক সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন প্রতিকূলতা এবং ইউরোপের ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ কিছুটা কমে যাওয়ার পরও সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বেশ ইতিবাচক রয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অন্যান্য খাতের তুলনায় জুতা খাতের এই অগ্রগতি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক এবং এটি দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে নতুন গতি সঞ্চার করেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সময়ে মোট ৪২ কোটি মার্কিন ডলারের জুতা বিদেশে পাঠানো হয়েছে। অথচ এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৩১ কোটি ডলার, যা হিসাব করলে প্রায় ৩৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। অথচ একই সময়ে দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত তৈরি পোশাকের রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছিল মাত্র ছয় শতাংশের কাছাকাছি, যা জুতা খাতের এই সাফল্যের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চীনা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের পর পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলাতে শুরু করে। ওই সময় চীন ইউরোপের বাজারে কম দামে জুতা বিক্রির আগ্রাসী নীতি গ্রহণ করায় বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা সেখানে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন। তবে একই কারণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের জুতার নতুন নতুন ক্রয়াদেশ আসতে শুরু করে এবং ভারতের পাশাপাশি মেক্সিকোর মতো নতুন বাজারেও জুতা রপ্তানি শুরু হয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে প্রধানত চামড়া ও কৃত্রিম উপাদানে তৈরি দুই ধরনের জুতা বিশ্ববাজারে রপ্তানি করা হচ্ছে। এর মধ্যে চামড়ার জুতার অংশীদারিত্ব বেশি থাকলেও বিশ্বজুড়ে চামড়াবিহীন জুতার চাহিদা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় জুতা প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে নতুন বিনিয়োগ ও অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে বন্ড সংক্রান্ত জটিলতা দূর করা গেলে আগামী দিনগুলোতে এই খাতে রপ্তানি আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *