দাফন নাকি দাহ, পাঁচ দিন ধরে ডিপ ফ্রিজে শুভর লাশ

মায়ের ধর্ম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এক অভাবনীয় পারিবারিক জটিলতা তৈরি হয়েছে, যার ফলে মৃত্যুর পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও শেষকৃত্য সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় মৃত যুবকের নাম শুভ, যিনি ধর্মান্তরিত হওয়ার পর বিল্লাল নাম গ্রহণ করেছিলেন। তার মৃত্যুর পর থেকেই মূলত বাবা ও মায়ের মধ্যে ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী শেষকৃত্য সম্পন্ন করা নিয়ে চরম বিরোধ দেখা দিয়েছে।

মৃত যুবকের মা জোরালো দাবি জানিয়েছেন যে, তার ছেলে জীবিতাবস্থায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন এবং মৃত্যুর পর তাকে মুসলিম রীতি অনুযায়ীই দাফন করতে হবে। অন্যদিকে, তার বাবা হরিচন্দ্র দাসের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত, যিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে তার ছেলে যেহেতু হিন্দু পরিবারে জন্ম নিয়েছেন তাই তাকে হিন্দু ধর্মে দাহ করাটাই একমাত্র সঠিক কাজ। এই পরস্পরবিরোধী দাবির ফলে একটি মানবিক বিষয় নিয়ে তীব্র আইনি ও সামাজিক জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।

মা ও বাবার এমন অনড় অবস্থানের কারণে শুভর মরদেহ দীর্ঘ পাঁচ দিন ধরে একটি হাসপাতালের ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। সন্তান হারানোর শোকে কাতর পরিবারটির এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব স্থানীয় পর্যায়েও বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। উভয়পক্ষই নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি অবিচল থাকায় কীভাবে এই অচলাবস্থার অবসান ঘটবে, তা নিয়ে এক ধরণের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

পরিবারের এই বিরোধ নিরসনে স্থানীয়ভাবে বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা এখন দেখার বিষয়। সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে আইনি মারপ্যাঁচ বা আদালতের নির্দেশের ওপর নির্ভর করতে হয়। শেষ পর্যন্ত শুভর মরদেহ দাফন করা হবে নাকি দাহ করা হবে, তা নিয়ে সংশয় কাটেনি এবং সংশ্লিষ্ট সবার নজর এখন এই স্পর্শকাতর পারিবারিক সংকটের আইনি ও সামাজিক সমাধানের দিকেই রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *