শিক্ষা ডেস্ক: শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন কুড়িগ্রামের এক অদম্য মানুষ দুঃখু মিয়া। জন্মগতভাবে তার দুটি হাত না থাকলেও কখনোই জীবনের কাছে হার মানেননি তিনি। নিজের দৃঢ় মনোবল এবং কঠোর পরিশ্রমের জোরে তিনি সমস্ত প্রতিকূলতা পেরিয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জনের মতো প্রশংসনীয় কৃতিত্ব দেখিয়েছেন।
জন্মের পর থেকেই প্রতিটি পদক্ষেপে তাকে নানা সামাজিক ও শারীরিক লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছে। দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ কাজ থেকে শুরু করে পড়াশোনা—সবকিছুই তাকে করতে হয়েছে দুই পা ব্যবহার করে। এই কঠিন পথচলায় তিনি পা দিয়েই লেখালেখি শিখেছেন এবং একে একে শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন ধাপ সফলভাবে অতিক্রম করে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছেন।
শিক্ষাজীবন শেষ করে অন্যান্য সাধারণ যুবকদের মতো তিনিও একটি সম্মানজনক চাকরির জন্য বহু জায়গায় চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু নানা প্রতিবন্ধকতা ও সুযোগের অভাবে শেষ পর্যন্ত তার ভাগ্যে কোনো সরকারি বা বেসরকারি চাকরি জোটেনি। তবে বেকার বসে না থেকে তিনি সমাজ বদলানোর এক অনন্য ব্রত গ্রহণ করেন এবং নিজেই কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন।
চাকরির পেছনে না ছুটে তিনি নিজের এলাকায় এলাকার গরিব ও অবহেলিত শিশুদের জন্য একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে তার গড়া এই স্কুলটি ওই অঞ্চলের কোমলমতি শিশুদের শিক্ষাদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং তিনি নিজেই শিক্ষকতা করে তাদের ভবিষ্যৎ গড়ছেন। তার এই নিঃস্বার্থ উদ্যোগ ও অসামান্য আত্মত্যাগ আজ স্থানীয় এলাকাবাসীর কাছে এক অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছে।


