দুবাইয়ের ভাইরাল ‘কিশতা’ ডেজার্ট বানাবেন যেভাবে

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে দুবাইয়ের ভাইরাল ‘কিশতা’ নামের একটি সুস্বাদু ডেজার্ট। এর আগে দুবাই চকলেটের জয়জয়কার দেখা গেলেও বর্তমানে খাবারপ্রেমীদের মাঝে এই ক্রিমি ও সিল্কি মিষ্টির জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী হয়েছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এই মুখরোচক ডেজার্টের নানা ছবি ও ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহ্যবাহী এই মিষ্টান্নটির মূল আকর্ষণ হলো এর অত্যন্ত মোলায়েম ও ঘন ক্রিমের মতো টেক্সচার, যা মুখে দিলেই মিলিয়ে যায়।

বাণিজ্যিক উপায়ে তৈরি এই ডেজার্টটি দেখতে বেশ চমৎকার হলেও এটি রান্নাঘরে তৈরি করা মোটেও কঠিন কোনো কাজ নয়। বাজারের চড়া দামের মুখরোচক খাবার কেনার পরিবর্তে ঘরে থাকা কিছু সাধারণ উপকরণ দিয়েই এটি অনায়াসে প্রস্তুত করা সম্ভব। কিশতা তৈরির প্রধান উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে দুই কাপ তরল দুধ, এক কাপ হেভি বা ফ্রেশ ক্রিম, আধা কাপ গুঁড়া দুধ এবং স্বাদমতো চিনি। এছাড়া মিশ্রণটি সঠিক ঘনত্বে আনতে তিন টেবিল চামচ কর্নফ্লাওয়ার, এক চা চামচ ভ্যানিলা এসেন্স, মধু এবং সামান্য পেস্তা বাদাম কুচি প্রয়োজন হয়।

মিষ্টি তৈরির প্রথম ধাপে একটি পাত্রে তরল দুধ, ফ্রেশ ক্রিম, গুঁড়া দুধ ও চিনি একসঙ্গে মিশিয়ে মাঝারি আঁচে জ্বাল দিতে হবে। অন্যদিকে, সামান্য দুধ বা পানিতে কর্নফ্লাওয়ার গুলিয়ে রাখতে হবে যাতে কোনো ধরনের দলা না থাকে। দুধের মিশ্রণটি ফুটতে শুরু করলে কর্নফ্লাওয়ারের তরলটি ধীরে ধীরে ঢালতে হবে এবং অনবরত নাড়তে হবে যাতে মিশ্রণটি দ্রুত ঘন ও মসৃণ হয়ে আসে। চুলা বন্ধ করার ঠিক আগ মুহূর্তে এতে ভ্যানিলা এসেন্স মিশিয়ে সুগন্ধ আনা হয় এবং গরম মিশ্রণটি একটি বেকিং ট্রেতে আধা ইঞ্চির বেশি পুরু না করে ছড়িয়ে দিতে হয়।

ওভেনে ১৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট ধরে এটি বেক করতে হবে যতক্ষণ না ওপরের অংশ হালকা সোনালি বর্ণ ধারণ করে। ওভেন ছাড়াও বিকল্প পদ্ধতিতে চুলায় পাত্রে পানি দিয়ে ঢাকনা আটকে অল্প আঁচে এটি বেক করা সম্ভব। বেক করার পর ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ঠান্ডা করে মিষ্টিটি ফ্রিজে রেখে তিন থেকে চার ঘণ্টা ভালোভাবে সেট করতে হয়। পরিশেষে, ফ্রিজ থেকে বের করে চারকোণা টুকরো করে কেটে ওপরের অংশে মধু ও পেস্তা বাদাম কুচি ছড়িয়ে এটি পরিবেশন করতে হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *