দেশের খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পের ‘শোকেস’ বাপা ফুডপ্রো

দেশের খাদ্য প্রক্রিয়াজাত খাতের প্রসার, সামর্থ্য এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এক ছাদের নিচে প্রদর্শনের লক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী বাপা ফুডপ্রো ইন্টারন্যাশনাল এক্সপোর আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ এগ্রো-প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) উদ্যোগে রাজধানী ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) এই মেলাটি শুরু হয়। এটি এই আয়োজনের একাদশতম আসর এবং এতে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠীর পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারাও সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে নিয়মিতভাবে আয়োজিত হয়ে আসা এই প্রদর্শনীটি এখন দেশের খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পের সার্বিক অগ্রগতির একটি অন্যতম বড় বাৎসরিক শোকেস হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

এবারের আসরে বিশ্বের প্রায় ২৭টি দেশের দুই শতাধিক ব্র্যান্ড এবং দেড় শতাধিক বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। প্রদর্শনীতে কেবল বিভিন্ন খাদ্যপণ্য প্রদর্শনেই সীমাবদ্ধ থাকা হয়নি, বরং এর পাশাপাশি বিভিন্ন কারিগরি অধিবেশন, বিশেষ সেমিনার ও ব্যবহারিক কার্যক্রমের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেজিং, মান পরিদর্শন, কোল্ড চেইন এবং আধুনিক লজিস্টিকস খাতের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি তুলে ধরছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর অটোমেশন, রোবোটিকস, স্মার্ট ফ্যাক্টরি এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল আইওটির মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এই প্রদর্শনীকে ভিন্নমাত্রা দিয়েছে, যেখানে চার হাজারের বেশি প্রযুক্তিগত সমাধান উপস্থাপন করা হচ্ছে।

মেলার বিভিন্ন কর্মশালা ও সেমিনারে খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, অর্থায়ন সহজীকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং ট্রেডমার্ক ও পেটেন্ট সংক্রান্ত নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। এছাড়া রপ্তানি খাতের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে এবং নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সরাসরি সংযোগ ঘটাতে বিশেষ সেশনের আয়োজন রয়েছে, যা নতুন উদ্যোক্তাদের ব্যবসা শুরু ও টিকিয়ে রাখতে দারুণভাবে সহায়তা করবে। বাপা সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ মুহাম্মদ শোয়াইব হাছান জানিয়েছেন যে এই ধরনের আন্তর্জাতিক মেলবন্ধন দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্য বিশ্বমানের প্রযুক্তি চেনার এবং বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগের এক অনন্য সুযোগ তৈরি করে দেয়।

তিন দিনব্যাপী এই প্রদর্শনীতে সাধারণ ভোক্তা, নতুন উদ্যোক্তা, গবেষক এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে তারা খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে সরাসরি ধারণা লাভ করতে পারেন। মেলায় আলজেরিয়া, চীন, ভারত, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উপস্থিতি দেশীয় খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও বেশি পরিচিত করে তুলতে সাহায্য করবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেছেন।

তবে বিশ্বজুড়ে চলমান বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে বাংলাদেশের খাদ্যপণ্য রপ্তানি কিছুটা কমেছে এবং দেশে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের মতো কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। তবুও সঠিক নীতিগত সহায়তা এবং সরকারি ও বেসরকারি খাতের পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে প্রান্তিক কৃষকদের জন্য বিশাল অর্থনৈতিক বাজার তৈরি করা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। সার্বিকভাবে, নানা চ্যালেঞ্জ পেরিয়েও দেশের খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এই প্রদর্শনীটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *