নতুন ব্যয়বহুল প্রথম ফোল্ডিং আইফোন বাজারে এনে বড় জুয়া শুরু করল অ্যাপল

প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এবং সম্পূর্ণ নতুন প্রযুক্তির ফোল্ডেবল বা ভাঁজযোগ্য আইফোন বাজারে উন্মোচন করেছে। অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের দ্বিতীয় সপ্তাহেই এই অভিনব ও ব্যয়বহুল ডিভাইসটি বাজারে আনলেন জন টার্নাস। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি গত দুই দশকের মধ্যে আইফোনের ইতিহাসে অন্যতম বড় ও যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করল।

বইয়ের আদলে তৈরি এই নতুন ফোল্ডিং আইফোনটির ডিজাইন ও কার্যকারিতায় বেশ কিছু অভিনবত্ব রাখা হয়েছে, যা সাধারণ স্মার্টফোনের ধারণাকে অনেকটাই বদলে দেবে। ডিভাইসটির বড় স্ক্রিন ব্যবহারকারীদের জন্য মাল্টিটাস্কিং এবং বিনোদনের এক নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এর অত্যাধুনিক প্রযুক্তির কারণে দাম বেশ চড়া রাখা হয়েছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, অত্যন্ত ব্যয়বহুল এই ফোল্ডেবল ডিভাইস বাজারে এনে অ্যাপল এক বড় ধরনের ব্যবসায়িক জুয়া খেলল। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে যখন প্রিমিয়াম গ্যাজেটের বিক্রি কিছুটা মন্থর, ঠিক সেই সময়ে এই ডিভাইসটি কতটা সফল হবে তা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। তা সত্ত্বেও, অ্যাপলের এই সাহসী পদক্ষেপ ভবিষ্যতে স্মার্টফোন বাজারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অ্যাপলের এই নতুন উদ্যোগের ফলে স্যামসাংসহ অন্যান্য ফোল্ডেবল ফোন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তাদের প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হবে। প্রযুক্তিপ্রেমী ও অ্যাপল ভক্তদের মধ্যে এই ডিভাইসটিকে ঘিরে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্দীপনা লক্ষ করা যাচ্ছে। আগামী দিনে বিশ্ববাজারে এই প্রিমিয়াম ফোল্ডিং ফোনের চাহিদা কেমন হয় এবং অ্যাপলের এই কৌশল কতটা লাভজনক প্রমাণিত হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *