নতুন ৪ পাঠ্যবই চূড়ান্ত অনুমোদন পাচ্ছে কাল, যা যা থাকছে

শিক্ষা ডেস্ক: দেশের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার গতানুগতিক মুখস্থবিদ্যা ও পরীক্ষাকেন্দ্রিক মানসিকতা থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে আনতে বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামী শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে যুক্ত হতে যাচ্ছে সম্পূর্ণ নতুন চারটি ভিন্নমাত্রার পাঠ্যবই। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, নীতি-নৈতিকতা এবং বাস্তবমুখী কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্য সামনে রেখে এসব বই প্রণয়ন করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচ্চপর্যায়ের সভায় বইগুলোর চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রস্তাবিত নতুন তালিকায় চতুর্থ শ্রেণির জন্য থাকছে ‘খেলাধুলা’ ও ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ নামক দুটি বই এবং ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ নামক বইগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আনন্দ, খেলাধুলা ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনের পাশাপাশি হাতে-কলমে কারিগরি দক্ষতানির্ভর এই পাঠ্যপুস্তকগুলো নতুন প্রজন্মের শিখন পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রাথমিক অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষে প্রায় দেড় কোটি কপি বই মুদ্রণের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা একমুখী ও ক্লান্তিকর না করে তোলার উদ্দেশ্যে চতুর্থ শ্রেণির জন্য ১৪টি গতিশীল অধ্যায়ে ‘খেলাধুলা’ বইটি সাজানো হয়েছে। এতে বিভিন্ন খেলার মৌলিক নিয়মের পাশাপাশি আত্মরক্ষার কৌশল এবং প্রাথমিক চিকিৎসার নানা বাস্তবসম্মত বিষয় সহজভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। অন্যদিকে দেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করতে ১১টি অধ্যায়ে প্রণয়ন করা হয়েছে ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ বইটি। এতে ভাষা, পোশাক, শিল্পকলা এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী জীবনধারার পাশাপাশি সমাজ ও সংস্কৃতির নানা দিক বর্ণিল চিত্রে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে পড়াশোনার চাপ কমাতে এবং শিখন প্রক্রিয়াকে আনন্দদায়ক করতে ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য প্রণীত হয়েছে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বইটি। প্রচলিত পরীক্ষার ভীতি দূর করে পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া ও সহপাঠক্রমিক নানা কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে কীভাবে জ্ঞান অর্জন করা যায়, সেই ধারণা এতে তুলে ধরা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই নতুন পাঠ্যক্রম বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীরা কেবল পুঁথিগত বিদ্যায় সীমাবদ্ধ না থেকে সুনাগরিক ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ পাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *