নবম পে স্কেলে ৩ মাসের বকেয়াসহ বেতন পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা

নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো বা পে-স্কেল অনুযায়ী দেশের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণ বা পে ফিক্সেশন প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। বেতন নির্ধারণের এই প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার পর সরকারি চাকরিজীবীরা একসঙ্গে প্রায় তিন মাসের এরিয়ার বা বকেয়া বেতন তুলতে পারবেন যা তাদের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবীদের এই বেতন নির্ধারণ সম্পন্ন করা হবে ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ বা iBAS++ নামক সমন্বিত বাজেট ও হিসাবরক্ষণ পদ্ধতির পে ফিক্সেশন মডিউলের মাধ্যমে। এর জন্য চাকরিজীবীদের নির্ধারিত পোর্টালে অনলাইনে প্রবেশ করে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মতারিখ, বর্তমান পদবি, গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ এবং বর্তমান মূল বেতনের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো নির্ভুলভাবে এন্ট্রি দিতে হবে। এছাড়া অতীতে কোনো পদোন্নতি, বদলি, টাইম স্কেল কিংবা উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকলে তার স্বপক্ষে থাকা যথাযথ অফিস আদেশের নথিপত্র প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনলাইনে তথ্য এন্ট্রির পর সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় থেকে তা অত্যন্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে এবং তথ্যে কোনো গরমিল পাওয়া গেলে তা সংশোধনের সুযোগ রাখা হয়েছে। এই কার্যক্রম সম্পূর্ণ নির্বিঘ্ন করতে অর্থ বিভাগের ‘এসপিএফএমএস’ কর্মসূচির আওতায় বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রক এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হিসাব কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় অনলাইন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। বেতন নির্ধারণের কাজটি চূড়ান্ত হলেই নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়মিত বেতন বিল ও বকেয়া পাওনার হিসাব তৈরি হয়ে যাবে।

নতুন এই বেতন কাঠামোটি নির্দিষ্ট কয়েকটি ধাপে কার্যকর করা হবে এবং চলতি অর্থবছরে এর বর্ধিত অংশ পরিশোধের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশাল অঙ্কের বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে নতুন কাঠামোর বিভিন্ন ভাতার অংশটি কিছুটা পরে কার্যকর হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অন্যদিকে, নতুন বেতন আদেশে পদোন্নতিহীন সন্তোষজনক চাকরির নির্দিষ্ট বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার বিধান রাখা হলেও অতীতে একই পদে একাধিক সুবিধা পাওয়া কর্মীদের সমন্বয় নিয়ে কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছিল, যা অর্থ বিভাগ বর্তমানে সফলভাবে নিরসন করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *