নরেন্দ্র মোদির কণ্ঠে চার দেশের সামরিক সুরক্ষায় শেখ হাসিনার ফেরার বার্তাটি এআই নির্মিত

জাতীয় ডেস্ক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যেখানে দাবি করা হচ্ছে যে, ভারত, আমেরিকা, রাশিয়া ও যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক প্রটোকলের আওতায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুব শীঘ্রই দেশে ফিরবেন। ফেসবুকের বিভিন্ন পেজ ও অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়ানো এই ভিডিওটিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ছবির সঙ্গে একটি অডিও যুক্ত করা হয়েছে। আলোচিত ভিডিওটি সাধারণ ব্যবহারকারীদের নজর কাড়লে অনেকেই এটিকে সত্য বলে বিশ্বাস করেন এবং বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্য প্রকাশ করেন।

ভাইরাল হওয়া ওই অডিও ক্লিপটিতে নরেন্দ্র মোদির কণ্ঠের আদলে হিন্দিতে বলতে শোনা যায় যে, চার দেশের সেনাবাহিনী বা নিরাপত্তা দল ডিসেম্বরে বাংলাদেশে এসে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনবে এবং এ বিষয়ে যেন কেউ কোনো সামরিক তৎপরতা না চালায়। ভিডিওটির ডান পাশে ভারতের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম ‘এবিপি বাংলা’-র লোগো ব্যবহার করে সেটিকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করা হয়। তবে এই ধরনের কোনো বক্তব্য বা ঘোষণা মূলধারার কোনো গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি বলে অনুসন্ধানে জানা যায়।

ভিডিওটিতে ব্যবহৃত নরেন্দ্র মোদির স্থিরচিত্রটি নিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এটি মূলত চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের ছবি। এবিপি বাংলার ওয়েবসাইটে ‘নরেন্দ্র মোদির কত টাকা, গয়না রয়েছে’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে কেবল তাঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তির হিসাব ও অস্থাবর সম্পদের বিবরণ তুলে ধরা হয়েছিল। সেখানে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা বা কোনো আন্তর্জাতিক সামরিক প্রটোকল সংক্রান্ত বিন্দুমাত্র তথ্যও ছিল না।

অডিওটির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী টুল ‘Resemble AI’-এর সাহায্য নেওয়া হয়। বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, ভিডিওটিতে ব্যবহৃত অডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করার সম্ভাবনা প্রায় ৯৬ শতাংশ। এছাড়া যে পেজ বা অ্যাকাউন্টগুলো থেকে এই ভিডিও ছড়ানো হয়েছে, সেগুলোতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও প্রোপাগান্ডামূলক কনটেন্ট নিয়মিত প্রচার করা হয় বলে জানা গেছে।

সব মিলিয়ে চার দেশের সামরিক বাহিনীর সুরক্ষায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার এই দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। মূলত নরেন্দ্র মোদির সম্পদ বিবরণী সংক্রান্ত একটি পুরনো খবরের ছবি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি একটি ভুয়া অডিও একসঙ্গে জুড়ে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিভ্রান্তিকর প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *