নাচের কথা বলে এনে ‘নৃত্যশিল্পীকে’ দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় এক তরুণীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নাচ-গানের কথা বলে ওই তরুণীকে মুন্সিগঞ্জ থেকে ডেকে এনে এই পাশবিক নির্যাতন চালানো হয় বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোখলেছুর রহমান মিঠু নামের চল্লিশ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার শিকার তরুণী বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন, যেখানে আরও চারজনকে আসামি করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের নলেয়া রশিদ মোড় এলাকা থেকে প্রধান অভিযুক্তকে আটক করা হয়।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী এলাকা থেকে তিন তরুণীকে নাচ ও গানের অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার কথা বলে ভাড়া করে ভূরুঙ্গামারীতে নিয়ে আসা হয়েছিল। তাদের চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুরের সামাদের ঘাট এলাকায় একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখা হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি বুঝে দুই তরুণী চলে যেতে সক্ষম হলেও ভুক্তভোগী তরুণীটি আটকা পড়েন। পরবর্তীতে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ওই তরুণীকে স্থানীয় একটি নির্জন কাশবনে জোরপূর্বক আটকে রাখেন এবং সেখানে তাঁর ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন।

ধর্ষণের পাশাপাশি অপরাধীরা ওই তরুণীর সঙ্গে থাকা একটি দামি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন এবং নগদ পাঁচ হাজার ছয়শ টাকা জোর করে ছিনিয়ে নেন। ঘটনার পর ভুক্তভোগী যুবতীর কাছে বাড়িতে ফিরে যাওয়ার মতো কোনো অর্থ বা যাতায়াতের ব্যবস্থা ছিল না। নিরুপায় হয়ে তিনি অভিযুক্তদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন এবং একপর্যায়ে ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের নলেয়া রশিদ মোড় এলাকায় মোখলেছুর রহমানকে দেখতে পান। সেখানে তিনি নিজের মোবাইল ফোন ও টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্ত ব্যক্তি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করেন।

ওই তরুণীর আর্তচিৎকার ও কথাবার্তা শুনে স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হয় এবং তারা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ভূরুঙ্গামারী থানা-পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরবর্তীতে পুলিশি অভিযানে মোখলেছুর রহমান মিঠুকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিম উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান যে, ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে এবং মূল অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং ছিনতাই হওয়া মোবাইল উদ্ধারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *