না আটকে মেসির জাদুই কেবল উপভোগ করতে চান বেনিন ডিফেন্ডার তিয়ানি

খেলা ডেস্ক: ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটতে চলেছে। রেকর্ড আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা লিওনেল মেসি খুব শীঘ্রই তার বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারের ইতি টানতে চলেছেন। বুয়েন্স আইরেসে বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচটি দিয়েই আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার বর্ণিল পথচলার পর্দা নামবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি নিয়ে গোটা ফুটবল বিশ্বে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা ও আবেগঘন আলোচনা। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হওয়া এবং ফুটবলের এই জীবন্ত কিংবদন্তির বিদায়ী মুহূর্তের সাক্ষী হওয়া বেনিনের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় এক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ম্যাচটিকে সামনে রেখে প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড়দের মাঝে ভিন্ন এক মানসিকতা লক্ষ্য করা গেছে। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের ৮৯ নম্বর দল বেনিনের গোলরক্ষক মার্সেল দাঞ্জিনু মাঠে আর্জেন্টিনাকে একচুলও ছাড় না দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করলেও দলের ডিফেন্ডার মোহামেদ তিয়ানি সম্পূর্ণ বিপরীত এক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। বুয়েন্স আইরেসের রাস্তায় কেনাকাটায় ব্যস্ত থাকার সময় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি কোনো রাখঢাক না করে নিজের মনের কথা প্রকাশ করেন। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে আর্জেন্টিনার মহাতারকাকে আটকানোর জন্য তাদের কোনো বিশেষ কৌশল বা পরিকল্পনা নেই।

মেসির প্রতি নিজের অগাধ শ্রদ্ধা ও মুগ্ধতা প্রকাশ করে তিয়ানি জানান যে এই কিংবদন্তি ফুটবলারকে আটকানোর চেষ্টা করার চেয়ে তার খেলা মাঠে দাঁড়িয়ে উপভোগ করাটাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন যে তাদের দলের কাছে মেসি হলেন বিশ্বের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় এবং তার মতো প্রতিভাকে প্রতিহত করার চেয়ে এই মুহূর্তটি উদ্‌যাপন করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিয়ানির এই মন্তব্য প্রমাণ করে যে কৌশলগত লড়াইয়ের চেয়েও ফুটবল জাদুকরের বিদায়ক্ষণকে মাঠে উপভোগ করতেই বেনিনের ফুটবলাররা বেশি আগ্রহী।

এই বিশেষ ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে রাখতে তিয়ানি বুয়েন্স আইরেসের স্থানীয় বাজার থেকে তার ছেলে-মেয়ের জন্য একটি ঐতিহ্যবাহী আর্জেন্টাইন ‘মাতে কাপ’ও সংগ্রহ করেছেন। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্কৃতি এবং মেসির প্রতি ভালোবাসার এক অপূর্ব বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বেনিন ডিফেন্ডারের এই আচরণে। সব মিলিয়ে, বিশ্ব ফুটবলের বরপুত্রকে বিদায় জানানোর এই আয়োজনে প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড়ের এমন আন্তরিক প্রশংসাবাক্য পুরো ম্যাচের পরিবেশকে আরও বেশি আবেগঘন ও স্মরণীয় করে তুলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *