পশ্চিমা গণমাধ্যম যুদ্ধের খবর পক্ষপাতদুষ্টভাবে তুলে ধরছে: ইরানের রাষ্ট্রদূত

পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের খবর প্রচারের ক্ষেত্রে পশ্চিমা মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলো একপেশে ও পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমী জাহানাবাদী। সম্প্রতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে যোগ দিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। সেমিনারে উপস্থিত থেকে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বর্তমান বৈশ্বিক সংঘাতের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো গণমাধ্যমের লড়াই বা মিডিয়া ওয়ার। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে প্রভাবশালী পশ্চিমা মাধ্যমগুলো প্রকৃত সত্য গোপন করে একতরফা এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত রয়েছে।

বক্তব্যের শুরুতেই বাংলাদেশের জনগণের আন্তরিকতা ও বন্ধুসুলভ আচরণের ভূয়সী প্রশংসা করেন ইরানি রাষ্ট্রদূত। তিনি উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত ধর্মভীরণ এবং তাঁরা সব সময়ই ইরানের সরকার ও জনগণের পাশে থেকে সংহতি প্রকাশ করেছেন। দুই দেশের এই ঐতিহাসিক ও আত্মিক সম্পর্ককে তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করেন এবং ভবিষ্যতেও এই পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহযোগিতা অটুট রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির গভীর বিশ্লেষণ তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, বর্তমানে সেখানে একটি পরাশক্তি ও তাদের মিত্রদের পক্ষ থেকে স্বাধীন একটি দেশের ওপর আগ্রাসন চালানো হচ্ছে। এই ধরনের সশস্ত্র সংঘাতে সামরিক বা অর্থনৈতিক শক্তির পাশাপাশি গণমাধ্যমের প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী হয়ে থাকে। কিন্তু পশ্চিমা প্রচারণায় গাজা ও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী বা নির্যাতিত সাধারণ মানুষকে সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে, আর অন্যদিকে ইসরায়েলকে উপস্থাপন করা হচ্ছে গণতন্ত্রের ত্রাতা হিসেবে যা সম্পূর্ণ অন্যায় ও বিভ্রান্তিকর।

আন্তর্জাতিক আইনের বিধানাবলি তুলে ধরে ইরানের এই কূটনীতিক জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদের আত্মরক্ষার অধিকারের বিষয়টি উল্লেখ করেন। তাঁর দেশ এই আইনি বিধান মেনেই নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও জনগণকে রক্ষার চেষ্টা করছে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সপ্তম অধ্যায়ের ৪২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বলপ্রয়োগের কোনো অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে স্বাধীন দেশের ওপর আক্রমণ চালানো হচ্ছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান শাহ মো. নিসতার জাহান কবীরের সভাপতিত্বে আয়োজিত ওই সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন রাশিয়া ও বাংলাদেশের বিশিষ্ট académic এবং গবেষকবৃন্দ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *