প্রতিটি মানুষ নাগরিকত্বের ভিত্তিতে সমান অধিকার ও নিরাপত্তা ভোগ করবে

বাংলাদেশে বসবাসকারী কোনো বিশেষ জনগোষ্ঠী বা সম্প্রদায়কে আলাদা করে ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে চিহ্নিত করার কোনো প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সম্প্রতি রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই সুনির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, ধর্ম বা অন্য কোনো বিভাজনের রেখা টেনে কাউকে আলাদা করা উচিত নয়, বরং দেশের প্রতিটি মানুষ কেবল তাদের নাগরিক পরিচয়ের ভিত্তিতেই সমান অধিকার এবং নিরাপত্তা পাওয়ার যোগ্য।

অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিটি নাগরিকের প্রথম এবং প্রধান পরিচয় হওয়া উচিত যে তারা সবাই বাংলাদেশি বলে মন্তব্য করেন। তিনি একটি অসাম্প্রদায়িক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে উল্লেখ করেন যে, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের মূল নীতি হলো সবার জন্য সমান বাংলাদেশ। ধর্মীয়, সামাজিক কিংবা নৃগোষ্ঠীগত যেকোনো ভিন্ন পরিচয় মানুষের নাগরিক পরিচয়ের পরের বিষয় হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।

অতীতের রাজনৈতিক ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অতীতে অনেকেই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ‘ভোট ব্যাংক’ হিসেবে বিবেচনা করে ফায়দা লোটার চেষ্টা করেছেন। তবে দেশের সচেতন জনগণ সেই ভুল ধারণা এবং কৃত্রিম রাজনৈতিক মিথ সম্পূর্ণভাবে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দেশের সব নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং আচার-অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে বিভিন্ন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলেও তিনি জানান।

সংবিধানের মূল চেতনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আইনগতভাবে বাধ্য। সংবিধানের চেতনাকে ধারণ করে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্য করা চলবে না এবং সব উপাসনালয়ের পূর্ণ নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা সরকার নিশ্চিত করেছে। তিনি কেবল কাগজে-কলমে নয়, বরং বাস্তব জীবনেও এই সাম্য ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন।

ভাষার ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি আরও বলেন, সমাজে প্রচলিত ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ শব্দটির পরিবর্তে এখন থেকে ‘ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি’ শব্দটি ব্যবহার করা উচিত। তিনি সব ধরনের উগ্রবাদ ও অসুর শক্তির বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এবং এই ইতিবাচক চর্চাই সমাজকে আরও সুন্দর করে তুলবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *