প্রতিবাদ বিক্ষোভ সমাবেশে উত্তাল সারা দেশ

জাতীয় ডেস্ক: সার ডিলারশিপ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। এর ফলে কৃষক সমাজসহ সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধারাবাহিক বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। বঞ্চিত আবেদনকারী ও স্থানীয় জনসাধারণের অভিযোগ, নিয়মনীতি উপেক্ষা করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে পছন্দের ব্যক্তিদের ডিলার হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এ পরিস্থিতির কারণে যেকোনো সময় বড় ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। দেশের বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে এই অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ায় কৃষি খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই উপাদানটির সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ের ত্যাগী রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তা বাতিলের দাবি তুলেছেন।

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় সার ডিলারশিপ বরাদ্দে ব্যাপক স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলেছেন বঞ্চিত আবেদনকারীরা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার জন্য ডিলার নিয়োগে দলীয় বিবেচনা এবং অনৈতিক লেনদেনকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। যোগ্য ও প্রকৃত ব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে উপজেলা ও পৌর বিএনপির বিভিন্ন নেতা, তাদের স্বজন এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ডিলারশিপ দেওয়ায় স্থানীয় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। অবিলম্বে এই পক্ষপাতদুষ্ট নিয়োগ বাতিল করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নতুন ডিলার নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্যথায় আন্দোলন আরও কঠোর করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্ষুব্ধ আবেদনকারীরা।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ ও মহেশপুর উপজেলায় তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং সার সংকটের পাশাপাশি সার ডিলার নিয়োগে দুর্নীতির প্রতিবাদে পৃথক কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সম্প্রতি আয়োজিত এসব মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সংসদ সদস্যরা বর্তমান পরিস্থিতির জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিকে দায়ী করেন। বক্তারা বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় হু হু করে বাড়লেও বর্তমান ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ার অনিয়ম পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তারা অবিলম্বে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে আনা এবং সার বিতরণে সব ধরনের সিন্ডিকেট ও দুর্নীতি বন্ধ করার জোর দাবি জানান। স্থানীয় সাধারণ মানুষও এসব কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে সার সংকটের দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

জামালপুর জেলায় নতুন সার ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের এক বিশাল চিত্র সামনে এসেছে। জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় নতুন ডিলারদের যে তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, তাতে একাধিক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর আত্মীয়স্বজন, ব্যক্তিগত সহকারী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের নাম রয়েছে। বঞ্চিত আবেদনকারীদের দাবি, নিয়োগ পাওয়ার জন্য বিশ থেকে পঁচিশ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করা হয়েছে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো বা গুদাম ছাড়াই ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, সাইকেল মেরামতের দোকানেও সারের সাইনবোর্ড টানানোর মতো ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান যে এই নিয়োগগুলো সাময়িক এবং নীতিমালার ব্যত্যয় ঘটলে তা নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে বাতিল করা হবে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ও বঞ্চিত ব্যবসায়ীরা এই পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার একটি নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *