প্রবাসীর বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখলেন জামায়াত নেতা, এলাকাবাসীর মানববন্ধন

জাতীয় ডেস্ক: চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের গাজিরগাছখোলা গ্রামে এক সৌদি প্রবাসীর বসতবাড়ির যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার হস্তক্ষেপে বাড়িটির প্রবেশপথে বাঁশের বেড়া দেওয়ায় পরিবারটির সদস্যরা চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এই অমানবিক ঘটনার প্রতিবাদে সম্প্রতি সকালে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যসহ স্থানীয় সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ভুক্তভোগী প্রবাসীর স্ত্রী আঁখি আক্তার গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করে জানান, তাঁর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে কষ্টার্জিত অর্থ উপার্জন করে এই বসতবাড়িটি নির্মাণ করেছেন। কিন্তু বাড়িটিতে প্রবেশের প্রধান গেট তৈরির কাজ শুরু করতেই স্থানীয় জামায়াত নেতা ও সাবেক পৌর মেয়র প্রার্থী আবদুল হাই শিকদারের লোকজন প্রবেশপথটি বাঁশের বেড়া দিয়ে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে দেয়। এর ফলে বাড়িতে কোনো পুরুষ অভিভাবক না থাকায় নারী ও শিশুরা অবরুদ্ধ জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চলাচলের পথ বন্ধ থাকায় প্রবাসীর স্কুলগামী সন্তানরা চরম বিপাকে পড়েছে। সাইকেল নিয়ে ঘর থেকে বের হতে না পারায় ছোট শিশুদের প্রায় দুই কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে হচ্ছে। গ্রামবাসীর মতে, একটি অসহায় প্রবাসীর পরিবারের বিরুদ্ধে এমন আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অবিলম্বে এই যাতায়াতের পথ উন্মুক্ত করে দেওয়া উচিত।

এদিকে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা আবদুল হাই শিকদার নিজের পক্ষে সাফাই গেয়ে দাবি করেছেন যে, বিরোধপূর্ণ ওই জমির মালিকানা তাঁর নিজের। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই স্থানে একটি কবরস্থান রয়েছে এবং মূলত সেই কবরস্থানের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থেই সেখানে বেড়া নির্মাণ করা হয়েছে। এই ঘটনার জেরে ইতোমধ্যে এলাকায় দুটি ভিন্ন পক্ষের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত হস্তক্ষেপ না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পরিবারটি তাদের অবরুদ্ধ দশা থেকে মুক্তি পেতে এবং স্বাভাবিক চলাচলের পথ ফিরে পেতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। এলাকাবাসীও অবিলম্বে এই অন্যায়ের অবসান ঘটিয়ে প্রবাসীর পরিবারটিকে মুক্ত জীবনযাপনের সুযোগ করে দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *