প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগসহ পাঁচ দফা দাবি জাতীয় যুবশক্তির

রাজনীতি ডেস্ক: সম্প্রতি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দায়ীদের শাস্তির দাবিতে রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে জাতীয় নাগরিক পার্টির যুব অঙ্গসংগঠন জাতীয় যুবশক্তি। পূর্বঘোষিত এই কর্মসূচি থেকে সংগঠনের পক্ষ থেকে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের পদত্যাগসহ মোট পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করা হয়। দেশের শিক্ষিত বেকার যুবকদের অধিকার আদায় এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফেরানোর লক্ষ্যে এই আন্দোলন শুরু করেছে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জাতীয় যুবশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক রিফাত রশিদ অভিযোগ করেন যে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের এই ঘটনা প্রমাণ করে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গভীর অনিয়ম ও দুর্নীতি শিকড় গেড়ে বসেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ২৪২টি শূন্য পদের বিপরীতে প্রায় তিন লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রত্যাশী আবেদন করেছিলেন, যা দেশের তীব্র কর্মসংস্থান সংকটকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে। কিন্তু মেধার যথাযথ মূল্যায়ন না করে রাজনৈতিক প্রভাব, কোটা পদ্ধতি এবং ভাইভা নম্বরের অপব্যবহার করে নিয়োগপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ধরনের ছিনিমিনি খেলা সহ্য করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন এই তরুণ নেতা।

সমাবেশের অন্যান্য বক্তারা বর্তমান প্রশাসনের বিভিন্ন নীতির কঠোর সমালোচনা করে বলেন যে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের পুরোনো সংস্কৃতি থেকে এখনো বেরিয়ে আসা সম্ভব হয়নি। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী ফরহাদ সোহেল তার বক্তব্যে অভিযোগ করেন যে, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টির বদলে একটি বিশেষ সিন্ডিকেট দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির পথ প্রশস্ত করছে। এছাড়া পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে চাকরিপ্রত্যাশী তরুণদের হয়রানি করার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে এই হয়রানিমূলক ব্যবস্থা বন্ধ করার জোর দাবি জানান তিনি। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ব্যর্থতার কারণে আজ দেশের যুবসমাজ চরম হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম সরকারের সমালোচনা করে বলেন যে, তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রশাসন পুরোপুরি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। পরীক্ষার আগের রাতেই প্রশ্ন ফাঁসের তথ্য প্রকাশ পেলেও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ সময়মতো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরবর্তীতে তিনি সংবাদ সম্মেলন করে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ, স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন, মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিতকরণ, ভাইভা কারসাজি বন্ধ এবং বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রকাশের পাঁচ দফা দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমেই যুবসমাজ তাদের নায্য অধিকার ছিনিয়ে আনবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *