প্রায় দুই মাসের বদলে মাত্র দুই ঘণ্টায় শনাক্ত হবে মস্তিষ্কের টিউমার

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস বা এনএইচএস মস্তিষ্কের টিউমার দ্রুত শনাক্ত করার জন্য একটি যুগান্তকারী জিনগত পরীক্ষার ব্যবস্থা চালু করেছে। এর ফলে রোগীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে, কারণ যেখানে আগে টিউমারের সুনির্দিষ্ট ধরন জানতে আট সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো, সেখানে এখন মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই পরীক্ষার ফল পাওয়া সম্ভব হচ্ছে। এই প্রযুক্তির সফল ব্যবহারের মাধ্যমে রোগীরা চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপ থেকে মুক্ত হয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর চিকিৎসা শুরু করতে পারবেন।

নতুন এই প্রক্রিয়ায় মস্তিষ্কের টিউমার থেকে সংগৃহীত টিস্যুর নমুনা একটি বিশেষ সিকোয়েন্সিং যন্ত্রের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়। অক্সফোর্ড ন্যানোপোরের তৈরি জুতার বাক্সের আকৃতির এই যন্ত্রটি ডিএনএ অণুকে একটি ক্ষুদ্র ছিদ্রের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করে টিউমারের স্বতন্ত্র জিনগত বৈশিষ্ট্যগুলো নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করে। এর সঙ্গে নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি বিশেষ সফটওয়্যার যুক্ত থাকায় প্রচলিত মাইক্রোস্কোপিক পদ্ধতির চেয়ে অনেক বেশি গভীর ও বিস্তারিত আণবিক শ্রেণিবিন্যাস পাওয়া যায়।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো অস্ত্রোপচার চলাকালীনই টিউমারের প্রকৃতি ও ধরন সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। এর ফলে সার্জনরা অপারেশন চলাকালেই বুঝতে পারেন টিউমার অপসারণের সঠিক কৌশল ও পরিধি কী হওয়া উচিত। সম্প্রতি নটিংহামের এক রোগীর ওপর এই প্রযুক্তির সফল প্রয়োগ করা হয়েছে, যেখানে অস্ত্রোপচারের সময় পরীক্ষার প্রাথমিক ফল পাওয়ায় রোগীর দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা দ্রুত দূর হয়েছে।

যুক্তরাজ্যে প্রতি বছর ১২ হাজারের বেশি মানুষের দেহে প্রাথমিক মস্তিষ্কের টিউমার ধরা পড়ে এবং শিশু ও তরুণদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ এটি। এই বাস্তবতায় এনএইচএস ইংল্যান্ড প্রাথমিক পর্যায়ে নটিংহাম, বার্মিংহাম, লন্ডন ও নিউক্যাসলের পাঁচটি বিশেষায়িত কেন্দ্রে এই আধুনিক পরীক্ষাটি চালু করেছে। পরবর্তীতে ব্রিস্টল, অক্সফোর্ড, লিডস ও ম্যানচেস্টারের মতো প্রধান শহরগুলোতেও এই চিকিৎসা সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসার ঘটলে এটি দেশের নিয়মিত চিকিৎসাব্যবস্থার একটি অপরিহার্য অংশে পরিণত হবে। দ্রুত রোগ নির্ণয়ের পাশাপাশি এটি রোগীদের জন্য ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা, নতুন ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এবং উন্নত সেবা গ্রহণের পথ প্রশস্ত করবে। এনএইচএসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই উদ্ভাবন ক্যানসার চিকিৎসায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে এবং বহু রোগীর জীবন বাঁচাতে এটি অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *