প্রিজন ভ্যান খুলে দেন এসআই প্রদীপ, প্রাইভেট কারে চলে যান পিচ্চি রাজা

গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়ার সময় পুলিশের প্রিজন ভ্যান থেকে সুকৌশলে পালিয়ে যান ৩০ মামলার শীর্ষ আসামি পিচ্চি রাজা। প্রথমে গাজীপুরের বাইমাইল এলাকা থেকে পালানোর তথ্য প্রচার করা হলেও তদন্তে বেরিয়ে আসে ভিন্ন চাঞ্চল্যকর তথ্য। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দীর্ঘ অনুসন্ধান ও গোয়েন্দা তথ্যে জানা যায়, আসামিকে বাইমাইল থেকে নয়, বরং রাজধানীর তাঁতীবাজার এলাকা থেকে সুপরিকল্পিতভাবে পালিয়ে যেতে সহায়তা করা হয়েছিল। এই ঘটনার পর দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং বিষয়টি নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।

পুলিশের এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত সেপ্টেম্বরের শেষদিকে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৩০ জন বন্দিকে ঢাকার আদালতে হাজিরা ও শুনানির জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আদালতের কার্যক্রম শেষে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী তাদের পুনরায় কারাগারে ফিরিয়ে আনা হচ্ছিল। পথিমধ্যে স্কট পার্টির দায়িত্বে থাকা উপপরিদর্শক প্রবীর কুমার ও গাড়িচালক নায়েক কামাল হোসেন যোগসাজশে আসামিদের নিয়ে সন্দেহজনক গতিবিধি শুরু করেন। তারা নিয়মবহির্ভূতভাবে ভ্যান থামিয়ে বন্দিদের মধ্য থেকে পিচ্চি রাজা ও আরেক হাজতিকে বাইরে বের করে আনেন।

তদন্তে আরও উঠে আসে যে, তাঁতীবাজারের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাছাকাছি এলাকায় পৌঁছানোর পর প্রিজন ভ্যানের চাবি নিয়ে এসআই প্রবীর গাড়িটির দরজা খুলে দেন। এ সময় পিচ্চি রাজা ভ্যানে আর ফিরে না গিয়ে সেখানে আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা একটি প্রাইভেটকারে উঠে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। ঘটনার প্রকৃত সত্য আড়াল করতে এসআই প্রবীর ও তার সহযোগীরা পরবর্তীতে গাজীপুরের বাইমাইল এলাকায় নাটকীয়ভাবে গাড়ি থামিয়ে অন্য একটি ভুয়া ঘটনা সাজান। তারা মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন যে, টয়লেটে যাওয়ার নাম করে আসামি পালিয়ে গেছে, যা পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ ও সাক্ষ্যপ্রমাণে মিথ্যা প্রমাণিত হয়।

দায়িত্বে চরম অবহেলা এবং আসামি পালানোর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা ও সহযোগিতার অপরাধে পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমা, স্কট লিডার এসআই প্রবীর কুমার এবং গাড়িচালক নায়েক কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া ড্রাইভার কামালের বাসভবন তল্লাশি করে অবৈধ লেনদেনের সন্দেহে নগদ ষাট হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকিদের আইনের আওতায় আনতে এবং পলাতক পিচ্চি রাজাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করতে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *