ফুডপান্ডার পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুই মামলার কার্যক্রম হাইকোর্টে স্থগিত

আইন-আদালত ডেস্ক: জনপ্রিয় অনলাইন খাবার ও পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ফুডপান্ডা বাংলাদেশ লিমিটেডের পাঁচ শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে চলমান দুটি মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। প্রায় তিন কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাথ, জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে এই মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ এই স্থগিতাদেশ দেওয়ার পাশাপাশি মামলাগুলো কেন বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে একটি রুলও জারি করেছেন। ফুডপান্ডার ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই নির্দেশ প্রদান করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ডেলিভারি হিরো স্টোরস বাংলাদেশ লিমিটেড বা প্যান্ডামার্টের এক সাবেক সরবরাহকারীর করা মামলার প্রেক্ষিতে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে সংশ্লিষ্ট পাঁচ কর্মকর্তা হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নেওয়ার পর বিচারিক আদালতে হাজিরা দিয়ে নিয়মিত জামিনও লাভ করেছিলেন। মামলাগুলোর শুনানিতে আসামিপক্ষে অংশ নেন দেশের বিশিষ্ট জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা। ব্যবসায়িক লেনদেন ও হিসাবের গরমিল সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই মামলার সূত্রপাত হয়েছিল বলে আইনি সূত্রে জানা যায়।

এদিকে সরবরাহসংক্রান্ত ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে মামলার বাদী মো. শিহাব মাহমুদ বশিরের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অপর একটি চেক প্রত্যাখ্যান বা ডিজঅনার মামলায় তাঁকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। ডেলিভারি হিরো স্টোরসের করা চেক ডিজঅনারের কয়েকটি মামলার মধ্যে একটির রায় এটি এবং তাঁর বিরুদ্ধে সমসাময়িক আরও কয়েকটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। মূলত বকেয়া পাওনা আদায়ের লক্ষে চেক দেওয়ার পর পর্যাপ্ত তহবিল না থাকায় তা প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় ওই মামলাগুলো করা হয়েছিল।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, চেক প্রত্যাখ্যানের মামলা দায়ের করার পর প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ফুডপান্ডার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এই ফৌজদারি মামলাগুলো করা হয়েছে। ফুডপান্ডা কর্তৃপক্ষের মতে, ব্যবসায়িক বা বাণিজ্যিক বিরোধগুলো চুক্তি ও দেওয়ানি আইনের আওতায় মীমাংসা করা উচিত, যেখানে ফৌজদারি মামলার কোনো সুযোগ নেই। ব্যবসায়িক সংকটে ফুডপান্ডার কর্মকর্তাদের ওপর অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে আইনি প্রক্রিয়াকে অপব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে প্রতিষ্ঠানটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *