বাংলাদেশি নাবিক বললেন, ‘কেবিনে থাকলে হয়তো বেঁচে ফেরা হতো না’

সম্প্রতি এক ভয়াবহ সামুদ্রিক দুর্ঘটনার মুখোমুখি হন এক বাংলাদেশি নাবিক, যেখানে অল্পের জন্য মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসেন তিনি। গভীর সমুদ্রে হঠাৎ করেই জাহাজটিতে আগুন ধরে যাওয়ার ফলে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে ক্রুদের মধ্যে। চারপাশ অন্ধকার হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পুরো এলাকা ঘন ধোঁয়া ও পোড়া গন্ধে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল বলে জানান ওই নাবিক। প্রতিকূল সেই পরিস্থিতিতে জীবন বাঁচানোর একমাত্র উপায় হিসেবে দ্রুত কেবিন ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন তিনি।

দুর্ঘটনার সেই ভয়ংকর স্মৃতির কথাচারণ করতে গিয়ে ওই নাবিক জানান, দুর্ঘটনার সময় তিনি যদি নিজের কেবিনের ভেতরেই অবস্থান করতেন, তবে হয়তো জীবিত ফিরে আসার কোনো সুযোগই থাকত না। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে সেখানে শ্বাস নেওয়াও দায় হয়ে পড়েছিল। চারদিক থেকে সহকর্মীদের আত্মচিৎকার আর বাঁচার আকুতিতে এক বিভীষিকাময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল। সে সময় তার মনে হয়েছিল হয়তো এই যাত্রায় আর পরিবারের কাছে ফেরা হবে না।

পরবর্তীতে সাহসিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধির জোরে অন্য নাবিকদের সাথে নিয়ে কোনোমতে নিরাপде সরে আসতে সক্ষম হন তিনি। তবে এই লোমহর্ষক অভিজ্ঞতা তার মনে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলেছে বলে জানান। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নাবিকদের প্রায় সময়ই নানা ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়, যা অনেক সময় বড় ধরনের বিপর্যয়ের রূপ নেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আরও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ ধরনের ঘটনায় ক্রুদের মানসিক ট্রমা কাটিয়ে উঠতে উপযুক্ত কাউন্সেলিং এবং সহায়তা দেওয়া জরুরি। ওই বাংলাদেশি নাবিকের এই বক্তব্য সামুদ্রিক কর্মীদের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *