বিদেশে বাংলাদেশিদের কার্ড ব্যয় চার গুণ

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের তুলনায় বিদেশে অবস্থানকালে বাংলাদেশিদের কার্ডভিত্তিক লেনদেনের পরিমাণ কয়েকগুণ বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট মাসে দেশের নাগরিকরা বিদেশে বিভিন্ন খরচে প্রায় ৯৮৭ কোটি টাকা ব্যয় করেছেন। এর বিপরীতে একই সময়ে বিদেশিরা বাংলাদেশে তাদের কার্ড ব্যবহার করে খরচ করেছেন মাত্র ২৪৯ কোটি টাকার মতো। উভয় খাতের এই উল্লেখযোগ্য ব্যবধান দেশের আন্তর্জাতিক কার্ড লেনদেনের ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রার বড় ধরনের বহিঃপ্রবাহকে স্পষ্ট করে তোলে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এর আগের মাসের তুলনায় বিদেশে বাংলাদেশিদের কার্ডের ব্যবহার সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। নির্দিষ্ট ওই মাসে বিদেশে ক্রেডিট কার্ডে খরচ হয়েছে ৫০৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা, ডেবিট কার্ডে ৪২২ কোটি ১০ লাখ টাকা এবং প্রিপেইড কার্ডে ৬০ কোটি ১০ লাখ টাকার বেশি। দেশভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে নাগরিকদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে সবচেয়ে বেশি লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি ডেবিট কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য এবং প্রিপেইড কার্ডের ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশ ভারত শীর্ষে অবস্থান করছে।

এদিকে বিদেশে কার্ডের ব্যবহার বাড়লেও দেশের অভ্যন্তরে ক্রেডিট কার্ডের সামগ্রিক লেনদেন কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। আগের মাসের তুলনায় আগস্টে অভ্যন্তরীণ বাজারে ক্রেডিট কার্ডের লেনদেন ৫ শতাংশের বেশি কমে চার হাজার কোটি টাকার ঘরে নেমে এসেছে। দেশের ভেতরে এই কার্ডগুলোর সিংহভাগ ব্যবহার হয়েছে বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে কেনাকাটায়। এছাড়া রিটেইল আউটলেট, ইউটিলিটি সেবার বিল পরিশোধ এবং ওষুধ বা ফার্মেসিতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ লেনদেন হয়েছে, যদিও সামগ্রিক চিত্রে অভ্যন্তরীণ ব্যয় কিছুটা কমেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের আর্থিক খাতে প্লাস্টিক কার্ডের ব্যবহার এবং গ্রাহক সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত কয়েক বছরের ব্যবধানে ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ডের গ্রাহক সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে এবং লেনদেনও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এর মধ্যে প্রিপেইড কার্ডের গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেন জনপ্রিয় করতে বিভিন্ন বহুমুখী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে কার্ডভিত্তিক লেনদেনের পাশাপাশি বাংলা কিউআরের ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *