বিশ্বাসের বাজারে সব মাল ভেজাল

ফিচার ডেস্ক: জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে মানুষ যখন নানা জটিলতায় জর্জরিত থাকে, তখন চারপাশের মানুষের সততা নিয়ে প্রশ্ন জাগা অস্বাভাবিক নয়। সম্প্রতি এমন এক সংকটময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে এক ব্যক্তিকে, যার স্ত্রী চিকিৎসাধীন থাকায় পুরো পরিবার এক চরম মানসিক চাপের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে গাড়ি বিকল হয়ে যাওয়ার খবর আসে এবং মেরামতের নামে বড় অংকের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে জানা যায় গাড়িটির আসলে কোনো বড় সমস্যাই ছিল না, বরং চালকের কমিশন বা প্রতারণার শিকার হতে হয়েছে তাকে।

হাসপাতালের দুশ্চিন্তা কাটিয়ে বাসায় ফেরার পর জীবনের অন্য ক্ষেত্রেও একই ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয় ওই ব্যক্তিকে। বাজারের কেনাকাটায় বিশ্বস্ততার পরিচয় পেতে পদ্মার ইলিশ বলে যে মাছটি তিনি কিনেছিলেন, বাসায় ফেরার পর জানা যায় সেটি আসলে ইলিশই নয় বরং দেখতে তার মতো অন্য একটি মাছ। একের পর এক এমন ঘটনায় সত্য ও মিথ্যার সীমারেখা তার কাছে অত্যন্ত ঝাপসা হয়ে ওঠে এবং নিত্যদিনের এই প্রতারণা তাকে মানসিকভাবে আরও ক্লান্ত করে তোলে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার মাত্রা এতটাই বেড়ে যায় যে তাকে ওষুধের শরণাপন্ন হতে হয়। কিন্তু সেখানেও হতাশা ছাড়া আর কিছু জোটে না, কারণ বাজার থেকে কেনা ব্যথানাশক মলম বা বামও নকল বা ভেজাল হিসেবে প্রমাণিত হয়। কপালে লাগানোর পর সেই জেলিজাতীয় পদার্থ উপকারের বদলে উল্টো শারীরিক অস্বস্তি ও জ্বালাপোড়া তৈরি করে, যা তার আস্থার সংকটকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

চারপাশের সবকিছুতে এমন প্রতারণা ও ভণ্ডামি দেখার পর মানুষের বিশ্বাসের ভিত্তি একেবারেই নড়ে যায় এবং কোনো কিছুর ওপর ভরসা রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে। জীবনের এই নির্মম অভিজ্ঞতা থেকে শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, বিশ্বাসের চাদর ছিঁড়ে যাওয়ার পর একমাত্র ‘সন্দেহ’ বা সতর্কতাকেই পরম সত্য হিসেবে বেছে নেওয়া ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *