বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালকের পদ ছাড়লেন পুতুল

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একটি বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ গত বছরের শুরুর দিকে পাঁচ বছরের মেয়াদে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসীন হয়েছিলেন। তবে বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ডব্লিউএইচও এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যৌথ তদন্তের মুখে পড়ে সম্প্রতি তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন।

দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাকে প্রথমে গত বছরের মধ্যভাগে ছুটিতে পাঠায় এবং পরবর্তীতে বেতনবিহীন প্রশাসনিক ছুটিতে রাখে। এর আগে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা দায়ের করে। পুতুলের আইনজীবীদের পক্ষ থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে পাঠানো বিভিন্ন নথিপত্র থেকে জানা যায়, চীন সফরকালে আর্থিক অনিয়ম এবং নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ভুল তথ্য দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছিল তার বিরুদ্ধে।

এ ছাড়াও, বাংলাদেশে অবস্থানকালে অবৈধভাবে জমি দখলের আরেকটি অভিযোগও তার বিরুদ্ধে তোলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তবে এই অভিযোগের জবাবে সায়মা ওয়াজেদ দাবি করেন যে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় যোগদানের বহু আগেই তিনি ওই জমির মালিকানা লাভ করেছিলেন। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য বিশেষ আইনি বিধানের মাধ্যমেই তিনি ওই জমি পেয়েছিলেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুসের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে পুতুল নিজের ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, তাকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে বেতন না দেওয়ায় তার আর্থিক অবস্থা চরম সংকটে পড়েছে। মহাপরিচালকের নেতৃত্বের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেই তিনি এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন, যদিও এই বিষয়ে পুতুল বা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আর কোনো অতিরিক্ত মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *