বৃদ্ধাশ্রমে প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ইমাম বললেন—‘সেবা করতে গিয়েছিলাম’

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় একটি বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রিতা এক প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় একটি মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে এই অমানবিক কাজের অভিযোগ উঠার পর এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় চর বেতাগৈর মাতৃছায়া সমাজ কল্যাণ সংস্থা ও বৃদ্ধাশ্রমের পরিচালক বাদী হয়ে থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত মো. রুবেল মিয়া স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন এবং প্রায়ই ওই বৃদ্ধাশ্রমে সেবা করার উসিলায় যাতায়াত করতেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তিনি বৃদ্ধাশ্রমে প্রবেশ করে কৌশলে এক প্রতিবন্ধী নারীকে একটি পৃথক কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে ওই নারীর ওপর শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ওই নারী চিৎকার শুরু করলে বৃদ্ধাশ্রমের অন্যান্য বাসিন্দারা দ্রুত সেখানে ছুটে যান এবং হাতেনাতে অভিযুক্ত ইমামকে আটক করেন।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও বৃদ্ধাশ্রমের বাসিন্দারা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সাময়িক শাস্তি হিসেবে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখেন। পরবর্তীতে খবর পেয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং অভিযুক্তকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশ তাঁকে আদালতে সোপর্দ করেছে। পাশাপাশি, নির্যাতনের শিকার ভুক্তভোগী নারী নিজে অভিযোগ করেছেন যে অভিযুক্ত ব্যক্তি এর আগেও তাঁর সঙ্গে এমন অনৈতিক আচরণ করেছিলেন।

এদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ইমাম রুবেল মিয়া। আটকের পর তিনি দাবি করেন যে তিনি কেবল বৃদ্ধাশ্রমের লোকজনকে সেবা করার উদ্দেশ্যে সেখানে গিয়েছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা ধর্ষণের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তবে নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী নারীর সুনির্দিষ্ট বক্তব্য এবং প্রাথমিক প্রমাণের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং ওই নারীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *