বৃহস্পতির চৌম্বকীয় বলয়ে নতুন রহস্যের সন্ধান পেল জুনো

প্রযুক্তি ডেস্ক: সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ বৃহস্পতির চারপাশের অদৃশ্য চৌম্বকীয় বলয় বা ম্যাগনেটোস্ফিয়ার নিয়ে দীর্ঘদিনের ধারণায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এতদিন বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, বৃহস্পতির আংটির মতো দেখতে ম্যাগনেটোডিস্কটি একটি নিখুঁত ও মসৃণ থালার মতো যা গ্রহের ঘূর্ণনের সঙ্গে আবর্তিত হয়। তবে সম্প্রতি নাসার মহাকাশযান জুনোর পাঠানো নতুন তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ধারণার অবসান ঘটিয়েছেন গবেষকরা।

চীনের শানডং ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই আন্তর্জাতিক গবেষণার ফলাফল সায়েন্স চায়না আর্থ সায়েন্সেস জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষক দল জানিয়েছেন, বৃহস্পতির অতি দ্রুত ঘূর্ণন এবং এর সবচেয়ে ভেতরের দিককার সক্রিয় চাঁদ আইওর আগ্নেয়গিরি থেকে ছিটকে আসা কণাগুলো মিলে এই চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে। গ্রহটি নিজের অক্ষে প্রতি ৯.৯ ঘণ্টায় একবার ঘুরে আসলেও এর ম্যাগনেটোডিস্কটি কোনো মসৃণ আকৃতি বজায় রাখে না।

জুনোর পাঠানো সংকেত পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বৃহস্পতির চৌম্বক বলয়টি অত্যন্ত সক্রিয় অবস্থায় থাকলে এর ম্যাগনেটোডিস্ক দুমড়ে-মুচড়ে ঢেউখেলানো তরঙ্গের আকার ধারণ করে। মহাকাশের চৌম্বকীয় বলরেখাগুলো প্রচণ্ড চাপে ভেঙে গিয়ে নতুন করে জোড়া লাগার প্রক্রিয়া বা রিকানেকশনের সময় এই অদ্ভুত ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। পুকুরের জলে ঢিল ছুড়লে যেমন ঢেউ খেলে যায়, এখানকার বিদ্যুৎবাহী স্তরটিও ঠিক তেমনিভাবে কয়েক মিনিট থেকে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ঢেউয়ের মতো আকৃতি নেয়।

পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের আচরণের সঙ্গে বৃহস্পতির এই ব্যবস্থার কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি। পৃথিবীর ক্ষেত্রে চৌম্বকীয় তরঙ্গ রিকানেকশন সাইট থেকে দূরে সরে গেলেও বৃহস্পতিতে কারেন্ট শিট নিজেই ঢেউখেলানো অবস্থায় গ্রহের সঙ্গে তীব্র বেগে ঘুরতে থাকে। এই নতুন আবিষ্কার সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহটির জটিল পরিবেশ এবং মহাজাগতিক কণাগুলোর গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের সমঝ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *