বেনজীরকে ফেরাতে ৪ দিনের মধ্যেই অনুরোধ করা হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অবহেলা বা বিলম্ব করা হয়নি। জাতীয় সংসদে এক আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান যে, অভিযুক্ত সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেফতারে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের মাত্র চারদিনের মাথায় আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠানো হয়েছিল। সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেমের উত্থাপিত সাধারণ প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই তথ্য জানান। মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, প্রক্রিয়াটি ধীরগতির মনে হলেও তা নির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর মাধ্যমেই সম্পন্ন করা হচ্ছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে সব প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো কর্তৃক বেনজীর আহমেদকে আটকের খবর পাওয়ার পরপরই বাংলাদেশ সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেয় বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন। আমিরাতের আইন অনুযায়ী গ্রেফতারের পর ত্রিশ দিনের মধ্যে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানানোর বিধান থাকলেও, ঢাকা মাত্র চারদিনের মাথায় অর্থাৎ ১৬ জুন কূটনৈতিক চ্যানেলে সেই অনুরোধপত্র পাঠিয়ে দেয়। উল্লেখ্য যে, এই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি রয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে কোনো দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকায় আমিরাতের অভ্যন্তরীণ আইন ও পারস্পরিকতার নীতির ওপর ভিত্তি করে আইনি লড়াই চালাতে হচ্ছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিচার মন্ত্রণালয় থেকে পরবর্তীতে অতিরিক্ত তথ্য ও নথিপত্র চাওয়ার বিষয়টিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান যে, গত আগস্ট মাসে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে সেই সব সহায়ক নথি এবং আইনি ব্যাখ্যার জবাব পাঠানো হয়েছে এবং আরও কিছু সুনির্দিষ্ট তথ্যের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা রয়েছে। এছাড়া, আমিরাতে প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত আইনি লড়াই পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে ইতোমধ্যে একটি স্থানীয় স্বনামধন্য আইন সংস্থাকেও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিভিন্ন ধাপ পার হতে হয় বিধায় জামিন পাওয়া মানেই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাওয়া নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে বেনজীর আহমেদের সেন্ট লুসিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন যে, এ বিষয়ে কোনো বিদেশি রাষ্ট্র বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি, তাই কেবল সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। তার অবস্থান অন্য কোনো রাষ্ট্রে নিশ্চিত হওয়া মাত্রই আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া তার ও পরিবারের অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে বিভিন্ন দেশের কাছে পারস্পরিক আইনি সহায়তার অনুরোধ পাঠানো হয়েছে এবং পাসপোর্ট জালিয়াতির মামলার তদন্তও চলমান রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *