বোরহানউদ্দিনে সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক, নীতিমালার ব্যত্যয়ের অভিযোগ

জাতীয় ডেস্ক: ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার দেউলা ইউনিয়নের তালুকদার হাট বাজার এলাকায় নতুন সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত ডিলারদের তালিকায় ‘ভাই ভাই ট্রেডার্স’-এর স্বত্বাধিকারী লোকমান হোসেনকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে স্থানীয়দের দাবি, তিনি সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা বা ভোটার নন এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে ইতোমধ্যেই একাধিক ডিলারশিপ রয়েছে। এই নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে সাধারণ কৃষকদের মাঝে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

তালুকদার হাট বাজার এলাকার সাধারণ কৃষকদের অভিযোগ, ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার নিয়ম থাকলেও তা মানা হয়নি। দেউলা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক আব্দুর রব গণমাধ্যমকে জানান যে, লোকমান হোসেন ওই এলাকার ভোটার না হওয়ায় ভবিষ্যতে সার সরবরাহ এবং স্থানীয় বাজার ব্যবস্থাপনায় নানা জটিলতা তৈরি হতে পারে। একই এলাকার অন্য এক কৃষক লিটন দাবি করেন যে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্পষ্ট অনিয়ম হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ডিলারের পরিবারের অন্য সদস্যদের নামেও সার ব্যবসার লাইসেন্স রয়েছে। এই বিষয়ে কৃষকদের কাছে একটি কথোপকথনের অডিও রেকর্ডও রয়েছে বলে তারা সাংবাদিকদের জানান।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিরাও এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। দেউলা ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য কামরুন্নেছা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, লোকমান হোসেন ওই এলাকার ভোটার বা স্থায়ী বাসিন্দা নন এবং কীভাবে তিনি এই ডিলারশিপ পেলেন তা খতিয়ে দেখতে সরকারি নথিপত্র যাচাই করা প্রয়োজন। এদিকে, অভিযুক্ত ব্যবসায়ী লোকমান হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তিনি ফোন কেটে দেন, যার ফলে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এই নিয়োগ নিয়ে ভিন্ন সুর শোনা গেছে। বোরহানউদ্দিন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোবিন্দ কুমার মণ্ডল স্বীকার করেছেন যে, সংশ্লিষ্ট ডিলার ওই এলাকার ভোটার বা স্থায়ী বাসিন্দা নন বিষয়টি তার জানা ছিল এবং তিনি যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্যদের এ বিষয়ে সতর্কও করেছিলেন। তবে কমিটির সদস্যরা সেই অনুযায়ী কোনো ব্যবস্থা নেননি। অন্যদিকে, জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও ভোলার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

সব ধরনের অভিযোগ ও বিতর্ক উড়িয়ে দিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় দাবি করেছে যে, সম্পূর্ণ নীতিমালা অনুসরণ করেই এই নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। কৃষি সচিব জানিয়েছেন, ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতি কিংবা রাজনৈতিক সুপারিশের সুযোগ রাখা হয়নি। উল্লেখ্য, গত অক্টোবরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সারা দেশে ইউনিয়নভিত্তিক নতুন সার ডিলারদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। স্থানীয় কৃষকরা মনে করছেন, প্রশাসন যদি পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে তদারকি করে, তবে সার বিতরণ কার্যক্রমে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়ানো সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *