ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার ঘোষণা, আজীবন সম্মাননা পেলেন দুই বরেণ্য লেখক

জাতীয় ডেস্ক: বাংলা সাহিত্যের বিকাশ ও সৃজনশীল চর্চাকে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে ব্র্যাক ব্যাংক এবং দৈনিক সমকালের যৌথ উদ্যোগে মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে দুই বছরের জন্য নির্বাচিত বিজয়ী সাহিত্যিকদের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। দেশের সাহিত্যপ্রেমী, প্রকাশক ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে এই আয়োজন এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাহিত্যজগতে মেধা ও মননশীলতার স্বীকৃতি জানাতে এই উদ্যোগ প্রতিবছরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

অনুষ্ঠানে দুই ভিন্ন বছরের জন্য দেশের দুই বরেণ্য লেখককে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ২০২৪ সালের জন্য আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হন বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক, গবেষক ও লেখক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের এই সম্মাননা অর্জন করেন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। সাহিত্য অঙ্গনে তাদের দীর্ঘ সাধনা ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মাননা দেওয়া হয়, যার সঙ্গে নগদ পাঁচ লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র প্রদান করা হয়।

এ ছাড়া দুই বছরের বিভিন্ন বিভাগে আরও ছয়জন প্রতিভাবান লেখককে পুরস্কৃত করা হয়। ২০২৪ সালের বিভিন্ন বিভাগে বিজয়ীরা হলেন—প্রবন্ধ ও আত্মজীবনী ক্যাটাগরিতে আবুল আহসান চৌধুরী, কবিতা ও কথাসাহিত্যে আনোয়ারা সৈয়দ হক এবং তরুণ সাহিত্যিক বিভাগে নিজাম বিশ্বাস। পাশাপাশি, ২০২৫ সালের জন্য প্রবন্ধ ও আত্মজীবনী বিভাগে নাসরীন জাহান, কবিতা ও কথাসাহিত্যে শাহীন আখতার এবং তরুণ সাহিত্যিক বিভাগে মাহবুব ময়ূখ রিশাদ পুরস্কার লাভ করেন। বিজয়ী লেখকদের প্রত্যেককে বিভাগভেদে নগদ অর্থ, ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ সাহিত্যচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজ গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া টাইমস মিডিয়া লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ, ব্র্যাক ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং দৈনিক সমকালের সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলীসহ অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। তারা সাহিত্যিকদের সৃষ্টির স্বাধীনতা রক্ষা এবং পাঠকদের মননশীলতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

উল্লেখ্য, এই পুরস্কারের জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক বই জমা পড়েছিল, যা দেশের সাহিত্যানুরাগীদের ব্যাপক আগ্রহের প্রমাণ দেয়। অভিজ্ঞ জুরি বোর্ডের নিবিড় মূল্যায়নের মাধ্যমে দুই বছরের প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ গ্রন্থগুলো থেকে বিজয়ী নির্বাচন করা হয়। আয়োজক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই পুরস্কারের ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতে তরুণ ও উদীয়মান লেখকদের আরও বেশি অনুপ্রাণিত করবে এবং দেশের সামগ্রিক সাহিত্য অঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *