ভাইরাল ভিডিও আসল নাকি এআইয়ের বানানো, জানুন কয়েক সেকেন্ডেই

বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া যেকোনো ভিডিও যাচাই না করে শেয়ার করা বিপদজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির কল্যাণে এখন ভিডিওর সত্যতা নিরূপণ করা সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য বেশ কঠিন। অনেক সময় পুরোনো বা অন্য কোনো দেশের ঘটনার ভিডিওকে সাম্প্রতিক বা স্থানীয় ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হয়, আবার পুরোপুরি এআই-এর মাধ্যমে তৈরি কাল্পনিক ভিডিওকেও অনেকে বাস্তব বলে বিশ্বাস করে ফেলছেন। তাই কোনো ভিডিও পাওয়ার সাথে সাথে শেয়ার না করে সেটির উৎস ও প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখা জরুরি।

ভিডিওর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য খুঁটিয়ে দেখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এআই জেনারেটেড ভিডিওতে প্রায়ই মানুষের শারীরিক গঠন, আঙুল, চোখের নড়াচড়া বা পোশাকের ক্ষেত্রে অসংগতি থাকে। এছাড়া ভিডিওর ভেতরের সাইনবোর্ড, গাড়ির নম্বরপ্লেট বা অস্পষ্ট লেখার দিকে নজর দিলে অনেক সময় জালিয়াতি ধরা পড়ে। ভিডিওর একটি অংশ স্ক্রিনশট নিয়ে গুগল লেন্স বা রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে খুঁজে দেখুন এটি আগে অন্য কোনো ঘটনার সাথে যুক্ত ছিল কি না। নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমে সেই ঘটনার খবর আছে কি না, তা যাচাই করাও অন্যতম কার্যকর উপায়।

প্রযুক্তির এই যুগে কিছু অনলাইন টুল যেমন রিয়েলিটি ডিফেন্ডার, হাইভ মডারেশন বা ডিপওয়্যার স্ক্যানার ব্যবহার করে ভিডিওর সত্যতা কিছুটা পরীক্ষা করা সম্ভব। তবে মনে রাখতে হবে, কোনো টুলই শতভাগ নিশ্চিত নয়। তাই ভিডিও যাচাইয়ের জন্য মাত্র ৩০ সেকেন্ড সময় ব্যয় করে উৎস এবং তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করুন। অন্ধভাবে কোনো কনটেন্ট প্রচার না করে বরং ‘আগে যাচাই, পরে শেয়ার’—এই নীতি মেনে চলাই ভুল তথ্য ছড়ানো রোধ করার সেরা উপায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *