ভারতে তিন বছর কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন পাচার হওয়া ছয় বাংলাদেশি

জাতীয় ডেস্ক: উন্নত জীবনের আশায় অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে গিয়ে দীর্ঘ কারাবাসের পর অবশেষে নিজ ভূমিতে ফিরে এসেছেন ছয় বাংলাদেশি নাগরিক। সম্প্রতি ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে তাদের বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও কারাভোগ শেষে এই যুবকদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন পরিবারের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। ফেরত আসা এই প্রবাসীরা দেশের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা এবং তারা প্রত্যেকেই দালালের প্রতারণার শিকার হয়ে মানবেতর পরিস্থিতির মুখে পড়েছিলেন।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই যুবকরা প্রায় চার বছর আগে অবৈধ উপায়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে তারা জম্মু ও কাশ্মীর অঞ্চলে গিয়ে নির্মাণ ও অন্যান্য শ্রমিকের কাজ শুরু করেন। সেখানে অবস্থানকালে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তল্লাশিতে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে তারা আটক হন। আদালত তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়ে তিন বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন। সাজা ভোগ শেষ হওয়ার পর ভারতের একটি মানবাধিকার সংগঠনের সহায়তায় তাদের একটি নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল।

দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে এবং ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া বিশেষ অনুমতিপত্রের ভিত্তিতে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর তাদের বেনাপোল পোর্ট থানায় সোপর্দ করা হয়। সেখান থেকে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার নামের একটি স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থা তাদের নিজেদের জিম্মায় গ্রহণ করে। পরবর্তীতে ওই সংস্থার পক্ষ থেকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

উন্নত জীবনের লোভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দালাল চক্রের এই ধরনের প্রতারণার ঘটনা বর্তমানে এক উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় অবশ্যই বৈধ পথ এবং সরকারি নিয়মকানুন অনুসরণ করা উচিত। কাজের ধরন, নিয়োগকর্তার সঠিক তথ্য এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই না করে বিদেশ যাত্রা করলে এ ধরনের বড় ধরনের আইনি জটিলতা ও কারাবাসের ঝুঁকি বাড়তেই থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *