‘মক্কা চুক্তি’ বাস্তবায়নের সময় এসেছে: পাকিস্তান

সৌদি আরবের ভূখণ্ডে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক ড্রাফ ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্যে জানিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য আরও সুদৃঢ় করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, ভ্রাতৃপ্রতিম রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যৌথ পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এখন উপস্থিত হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে পাকিস্তানি প্রতিরক্ষামন্ত্রী সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে অতীতে স্বাক্ষরিত নিরাপত্তা সংক্রান্ত ‘মক্কা চুক্তি’ পুরোপুরি বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন। তার মতে, এই আঞ্চলিক ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তিগুলোকে কার্যকর করার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা এবং বাহ্যিক আগ্রাসন অনেকাংশে দমন করা সম্ভব হবে। পাকিস্তানের এই জোরালো কূটনৈতিক অবস্থান মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা স্থাপত্যকে আরও শক্তিশালী করার দীর্ঘমেয়াদী প্রচেষ্টারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের ইরানসমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক ও কৌশলগত স্থাপনা লক্ষ্য করে আক্রমণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই আক্রমণগুলো কেবল সৌদি আরবের জাতীয় নিরাপত্তার জন্যই নয়, বরং সমগ্র আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় হুমকি তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পাশাপাশি পাকিস্তানও মনে করে যে, এই ধরনের আগ্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা উচিত।

বিশ্লেষকদের ধারণা, খাজা আসিফের এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে পাকিস্তানের সক্রিয় ভূমিকা পালনের আগ্রহেরই বহিঃপ্রকাশ। সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক ও কৌশলগত মিত্রতার সম্পর্ক রয়েছে, যা যেকোনো সংকটে আরও জোরালো হয়। এখন দেখার বিষয়, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ‘মক্কা চুক্তি’ বাস্তবায়নের এই আহ্বান বাস্তবে কতখানি কূটনৈতিক গতি পায় এবং আঞ্চলিক অংশীদাররা এতে কেমন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *