মরিনিওর নতুন রিয়াল মাদ্রিদ : যা কিছু ভালো, যা কিছু মন্দ

ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের চলতি মৌসুমে জোসে মরিনিওর অধীনে নতুন পথচলা শুরু করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। মৌসুমের প্রথম ভাগে দলটি মাঠে আশানুরূপ কিছু জয় পেলেও কঠিন প্রতিপক্ষের মোকাবিলা করতে গিয়ে কিছু দুর্বলতাও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা ইতিমধ্যে পয়েন্ট টেবিলে বেশ ভালো ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় রিয়ালের সামনে চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন কৌশল ও পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামা মাদ্রিদের এই দলটির পারফরম্যান্সে ইতিবাচক ও নেতিবাচক—উভয় দিকই লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

দলের তরুণ তুর্কি আরদা গুলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করে চলেছেন। মাঝমাঠ কিংবা উইংয়ে তাঁর সাবলীল উপস্থিতি দলের আক্রমণভাগে বড় ভূমিকা রাখছে। অন্যদিকে, তরুণ স্ট্রাইকার কার্লোস এস্পি বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নেমে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গোল করে দলের জয়ে বড় অবদান রাখছেন। তবে বড় অঙ্কের টাকায় দলে ভেড়ানো ইয়ান দিওমান্দেকে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এখনো কিছুটা সময় দেওয়া হচ্ছে।

আক্রমণভাগে কিলিয়ান এমবাপ্পে ছন্দে থাকলেও ভিনিসিউস জুনিয়রের সঙ্গে তাঁর পজিশন নিয়ে কিছুটা জটিলতা দেখা দিয়েছে। কোচ মরিনিও এই দুই তারকাকে একসঙ্গে সবচেয়ে কার্যকরভাবে ব্যবহার করার কৌশল এখনও পুরোপুরি খুঁজে পাননি। এছাড়া রক্ষণভাগের সামনে খেলা নিয়ন্ত্রণ করার মতো খেলোয়াড়ের ঘাটতি এবং মাঝমাঠের সঠিক কম্বিনেশন নিয়ে কোচের পরীক্ষানিরীক্ষা এখনো চলছে। সাম্প্রতিক কিছু ম্যাচে বল দখলের লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়া এবং দ্বিতীয়ার্ধে খেই হারিয়ে ফেলা দলটির জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি কোচ মরিনিওর পুরোনো স্বভাবও আবার ফিরে এসেছে। সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে হারের পর রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন তুলে এবং সংবাদ সম্মেলনে ছবি প্রদর্শন করে তিনি আবারও আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। প্রতিপক্ষের সুবিধার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিতও দিয়েছেন। সব মিলিয়ে, মরিনিওর রিয়াল মাদ্রিদের এই যাত্রায় সাফল্যের পাশাপাশি চ্যালেঞ্জের পাহাড়ও জমে আছে, যা কাটিয়ে উঠতে তাকে বেশ বেগ পেতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *