মাদকের টাকার জন্য মাকে মারধর, বাধা দিতে গিয়ে প্রাণ গেল ভাইয়ের

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় মাদকের টাকার জেরে পারিবারিক কলহের জেরে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গত ১২ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার এগারসিন্দুর ইউনিয়নের চরদেবকান্দি গ্রামে এই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত গেন্দু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং ঘটনার দিন রাতে তিনি মাদকের জন্য মায়ের কাছে টাকা দাবি করেন। টাকা না পেয়ে তিনি উত্তেজিত হয়ে মায়ের গায়ে হাত তোলেন এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন শুরু করেন। মায়ের ওপর এমন নির্যাতন কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি তার বড় ভাই হৃদয় মিয়া।

মায়ের ওপর হামলার দৃশ্য দেখে বড় ভাই হৃদয় মিয়া তাৎক্ষণিকভাবে এগিয়ে আসেন এবং ছোট ভাইকে এই অনৈতিক কাজ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান। কিন্তু মাদকাসক্ত গেন্দু ভাইয়ের কথায় কর্ণপাত না করে উল্টো তার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দুই ভাইয়ের মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি শুরু হয়। পারিবারিক এই বিরোধ চরমে পৌঁছালে হৃদয় মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে ঘরে থাকা একটি ধারালো ছুরি দিয়ে ছোট ভাই গেন্ডুর বুকে আঘাত করেন। ভাইয়ের কোপে ঘটনাস্থলেই মারাত্মকভাবে আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন গেন্দু মিয়া।

রক্তাক্ত অবস্থায় ছোট ভাইকে দ্রুত উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন স্থানীয় প্রতিবেশীরা। তারা দ্রুত তাকে স্থানীয় পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তার প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পন্ন করলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। তবে দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, হাসপাতালে নেওয়ার পথেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে গেন্দু মিয়ার মৃত্যু হয়। নিহতের পেশা ছিল ট্রাক্টর চালনা, আর তিনি পরিবারে অশান্তির সৃষ্টি করে আসছিলেন বলে প্রতিবেশীরা জানান।

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে বড় ভাই হৃদয় মিয়াকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম আরিফুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, অভিযুক্তকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা সম্ভব হয়েছে এবং নিহতের মাদকাসক্তির বিষয়টি পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণের কাজ চলমান রয়েছে এবং পুলিশ পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদন্ত করে দেখছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *