মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ভয়, লজ্জা ও কুসংস্কার দূর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক: নাগরিকদের মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সমাজে বিদ্যমান ভয়, লজ্জা, কুসংস্কার এবং সব ধরনের বৈষম্য দূর করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি মনে করেন, মানসিক সমস্যাকে দুর্বলতা হিসেবে দেখার যে পুরনো মানসিকতা সমাজে শিকড় গেড়ে বসেছে, তা থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি। সম্প্রতি দেওয়া এক বাণীতে তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন যে, শারীরিক অসুস্থতার মতো মানসিক অসুস্থতাও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত। অথচ সচেতনতার অভাবে দেশের একটি বড় অংশের মানুষ মনের নানা জটিলতা নিয়ে নীরবে ভুগে থাকেন এবং সামাজিক লজ্জার ভয়ে চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হন না। এই নীরব দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে গণসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবার থেকে শুরু করে সব স্তরে মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ে খোলামেলা আলোচনার পরিবেশ তৈরি করার তাগিদ দেন তিনি।

সরকার প্রধান আরও জানান, মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে কেবল বিশেষায়িত হাসপাতালের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কাঠামোর সঙ্গে একীভূত করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও যেন খুব সহজে এবং সুলভে মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ ও চিকিৎসা সেবা পেতে পারেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি, এই খাতে দক্ষ পেশাজীবী তৈরি এবং মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানোর ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

সবশেষে, মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় চিকিৎসক, গবেষক, সমাজকর্মী এবং গণমাধ্যমসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি সহানুভূতিশীল ও মানসিক স্বাস্থ্যবান্ধব সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব, যেখানে প্রতিটি মানুষ কোনো ধরনের বৈষম্য বা সামাজিক সংকোচ ছাড়াই স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *