মামলা দেন আমার নামে, নিজে সারেন্ডার করে জেলে যাব: নাহিদকে ইশরাক

রাজনীতি ডেস্ক: সম্প্রতি বিএনপির নেতা ও সদ্য পদত্যাগ করা প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বিরুদ্ধে কঠোর মন্তব্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়েছেন। মূলত একটি ঘটনার পর সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলামের দেওয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইশরাক এই অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, মাদকদ্রব্যের মতো মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি নিয়ে কথা না বলে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধ খোঁজার পরামর্শ দিয়েছেন ওই রাজনৈতিক নেতা। নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এই বিষয়ে একটি দীর্ঘ পোস্ট শেয়ার করে তিনি তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন।

ওই ফেসবুক পোস্টে ইশরাক হোসেন অভিযোগ করেন যে, নাহিদ ইসলামের কাছে সাধারণ মানুষ এবং তরুণ প্রজন্ম তথা জেন-জি একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বা ইতিবাচক পরিবর্তন আশা করেছিল। কিন্তু মাদকের মতো ভয়ংকর মহামারি নিয়ে কোনো কার্যকর কথা না বলে উল্টো তাঁকে আইনি ঝামেলায় ফেলার পরামর্শ দেওয়ায় সেই আশার আলো নিভে গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। মাদকের বিরুদ্ধে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার বদলে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে ফাঁসানোর মানসিকতা দেশের প্রচলিত রাজনীতির কোনো গুণগত পরিবর্তন আনতে পারবে না বলে তিনি মনে করেন।

ইশরাক হোসেন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন যে, নাহিদ ইসলাম ও তাঁর দল যদি আইনি কোনো ফাঁকফোকর খুঁজে পায়, তবে তাঁর নামে যেন অবিলম্বে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়। তিনি আইন ও আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নিজে থেকেই আত্মসমর্পণ করে কারাগারে যেতে প্রস্তুত রয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। তবে এই ধরনের প্রতিহিংসামূলক ও গতানুগতিক রাজনীতির মাধ্যমে দেশে প্রকৃত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয় বলে তিনি দৃঢ় অভিমত ব্যক্ত করেন।

পোস্টের শেষ অংশে দেশের মাদক সমস্যার ভয়াবহতা তুলে ধরে ইশরাক হোসেন বড় মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ভিন্ন ও কঠোর কৌশলে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দেন। প্রথাগত রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি জানান যে, অচিরেই এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অন্য উপায়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশের বড় ডিলার ও মাদক বিক্রেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বার্তা দিয়ে বলেন যে, তাদের এই অপকর্মের জন্য শিগগিরই উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *