মার্কিন চাপে ইরানের সঙ্গে বিমান চলাচল বন্ধ করল ইরাক

ওয়াশিংটনের কঠোর নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কায় ইরানের সঙ্গে বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইরাক। দেশটির প্রধান তিনটি বিমানবন্দরে ইরানি এয়ারলাইনসগুলোর গ্রাউন্ড সার্ভিস বা বিমানজমি সংক্রান্ত সব ধরনের সেবা কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বাগদাদ প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদী ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্বে নতুন করে বড় ধরনের কূটনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে।

ইরাকের সংসদের প্রভাবশালী ইরানপন্থি রাজনীতিবিদ ও গোষ্ঠীগুলো সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল যেন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হুমকি আমলে নেওয়া না হয়। তা সত্ত্বেও বাগদাদ কর্তৃপক্ষ ওয়াশিংটনের নির্দেশনা বাস্তবায়নের পথ বেছে নেয় এবং স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের সেই আহ্বান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—উভয় দেশের সঙ্গেই বাগদাদের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক থাকায় এই দুই পরাশক্তির বিরোধের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা দেশটির জন্য অত্যন্ত দুরূহ হয়ে উঠেছে।

ইরাক ঐতিহাসিকভাবে বাণিজ্য ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পণ্য আমদানির জন্য ইরানের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, যার মধ্যে প্রধান হলো জ্বালানি গ্যাস। দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি বিরাট অংশ এই ইরানি গ্যাসের ওপর সরাসরি নির্ভর করে থাকে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের এই নির্দেশ বাস্তবায়নের জেরে তেহরান কোনো পাল্টা অর্থনৈতিক বা বাণিজ্যিক পদক্ষেপ গ্রহণ করলে তা ইরাকের ভঙ্গুর অর্থনীতিতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে বহুমুখী সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ইরাক, যার প্রধান আয়ের উৎস হলো অপরিশোধিত পেট্রোলিয়াম। কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে চলমান অবরোধ ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে নানা বাধার কারণে দেশটির প্রধান এই তেল রপ্তানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সব মিলিয়ে বিশ্ব পরাশক্তিগুলোর এই বৈরী সম্পর্কের জেরে অর্থনৈতিক মারপ্যাঁচে পড়ে চরম অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে ইরাকি পরিস্থিতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *