মিসরের পিরামিডে ঢুকলে কি অভিশাপ লাগতে পারে

হাজার বছরের পুরনো কোনো রাজপ্রাসাদ বা ঐতিহাসিক স্থাপনায় প্রবেশ করলেই অনেকের মনে এক অজানা ভয় কাজ করে। প্রাচীন জমিদারবাড়ি, দিল্লির হুমায়ুনের মাজার কিংবা লালকেল্লার অন্ধকার প্রকোষ্ঠে ঘুরলে মনে হতে পারে সেখানে কোনো অতিলৌকিক শক্তি বা অশরীরী আত্মা ঘুরে বেড়াচ্ছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যেও এমন রহস্যময় পরিবেশের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। অনেকে মনে করেন, এসব প্রাচীন স্থাপত্যের প্রতি কোণায় লুকিয়ে আছে কোনো অশুভ শক্তি বা অভিশাপের প্রভাব।

তবে বাস্তবসম্মত বিচার করলে প্রেতাত্মা বা অভিশাপের এই ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি পাওয়া যায় না। মূলত মানুষের মনের ভয় এবং প্রাচীন স্থাপনাগুলোর ভুতুড়ে পরিবেশই এমন ধারণার জন্ম দেয়। ঐতিহাসিক স্থানগুলোতে আলো-আঁধারির খেলা এবং প্রাচীন আমলের বিভিন্ন কাহিনি মানুষের কল্পনাশক্তিকে বাড়িয়ে তোলে। এর ফলে যেকোনো অদ্ভুত বা রহস্যজনক ঘটনা ঘটলে তা অতিপ্রাকৃত শক্তির সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয় সাধারণ মানুষের মাঝে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাচীন স্থাপনাগুলোতে অভিশাপের যে প্রচলিত বিশ্বাস রয়েছে, তার পেছনে সুনির্দিষ্ট কিছু বাস্তব কারণ লুকিয়ে থাকে। অতীতে বিভিন্ন সময় চোর ও দুষ্কৃতকারীরা প্রাচীন স্মৃতিসৌধ বা পিরামিডের মাটি খুঁড়ে মূল্যবান পুরাকীর্তি চুরি করত। এই অবৈধ খননের ফলে স্থাপনাগুলোর ভেতরে অনেক ছোট-বড় গর্ত বা ফাঁদ তৈরি হয়ে থাকত, যা সাধারণ পর্যটকদের চোখে পড়ত না।

মিসরের পিরামিডগুলোর ভেতরেও এমন অসংখ্য গোপন কবর খোঁড়া গর্ত বা সুড়ঙ্গের অস্তিত্ব রয়েছে। অসাবধানতাবশত অনেক পর্যটক অন্ধকার এসব গর্তে পড়ে গিয়ে আহত হন বা দুর্ঘটনার শিকার হন। প্রাচীনকালে সুরক্ষার জন্য তৈরি করা এই জটিল গঠন এবং পরবর্তী সময়ে চোরদের কর্মকাণ্ডের ফলে ঘটা দুর্ঘটনাগুলোকেই কালক্রমে পিরামিডের অভিশাপ হিসেবে প্রচার করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *