মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা হবে নির্মোহ ও নির্ভুল: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক: বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ এবং শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের একটি নির্ভুল তালিকা প্রস্তুত করতে বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ইতিহাসের কোনো দায় বা বিভ্রান্তি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাঁধে চাপাতে চায় না রাষ্ট্র। স্বাধীনতার ইতিহাস দেশের মানুষের আত্মপরিচয়ের প্রতীক হওয়ায় এই তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সততা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হচ্ছে। দলীয় বিবেচনা বা আবেগের ঊর্ধ্বে উঠে কেবল তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে এই ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে বলে জানানো হয়।

সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা শেষে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান এই তথ্য জানান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, প্রকৃত কোনো মুক্তিযোদ্ধা যেন কোনোভাবেই তালিকা থেকে বাদ না পড়েন এবং ভুয়া কোনো ব্যক্তি যেন এর সুযোগ না নিতে পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে। বর্তমানে তালিকাভুক্ত দুই লাখ তিন হাজার মুক্তিযোদ্ধার তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং অতীতের মতো যাতে কোনো অনিয়ম না হয়, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও জানান যে, স্বাধীনতার এত বছর পরও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নতুন আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়া চলতে থাকা কাঙ্ক্ষিত নয় এবং খুব শীঘ্রই এই সময়সীমা বন্ধ করা হবে। নির্ধারিত আগামী ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের পর নতুন করে আর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। ইতোমধ্যে জমা পড়া আবেদনগুলো নিবিড় তদন্ত, সাক্ষ্যগ্রহণ ও যথাযথ যাচাইয়ের মাধ্যমেই কেবল চূড়ান্ত করা হবে। অতীতে এই খাতকে ঘিরে নানা বিতর্ক ও অনিয়মের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন যে, সেই নেতিবাচক ধারা থেকে বেরিয়ে এসে মন্ত্রণালয় এখন একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

উক্ত মতবিনিময় সভায় দেশের বরেণ্য গবেষক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে মূল্যবান মতামত তুলে ধরেন। অধ্যাপক আবু সাইয়েদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজসহ সভায় অংশ নেওয়া বিশিষ্টজনেরা তালিকা প্রণয়নের কৌশল ও করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন যে, সবার সম্মিলিত পরামর্শ ও নিরপেক্ষ মূল্যায়নের মাধ্যমে খুব শীঘ্রই দেশের মানুষ একটি নির্মোহ ও সর্বজনগ্রাহ্য মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ তালিকা হাতে পাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *