মৃত্যুদণ্ডের সঙ্গে প্রতিশোধের সম্পর্ক নেই, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাই

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশের বিষয়ে মুখ খুলেছেন সরকারের নীতির্ধারকরা। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে এই রায়ের বিভিন্ন আইনি ও সামাজিক দিক তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দেন যে, আদালত কর্তৃক ঘোষিত এই সর্বোচ্চ শাস্তির আদেশের সঙ্গে কোনো ধরনের ব্যক্তিগত প্রতিশোধপরায়ণতার বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই। সরকারের পক্ষ থেকে এই রায়কে ইতিবাচকভাবে স্বাগত জানানো হয়েছে এবং এর মূল লক্ষ্য সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।

উপদেষ্টা তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, অভিযুক্তরা যদি দেশের ভেতরে উপস্থিত থাকতেন, তবে তারা নিজেদের পক্ষে আইনি লড়াই করার সুযোগ পেতেন এবং আদালতে নিজেদের অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরতে পারতেন। আসামিরা অনুপস্থিত থাকলেও বিচারপ্রক্রিয়া তার নিজস্ব গতিতেই সম্পন্ন হয়েছে এবং অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় আদালত এই রায় প্রদান করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, কেবল কারও ফাঁসির রায় দেখে উল্লাস করার চেয়ে বড় বিষয় হলো সমাজে প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করা। মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা অনুযায়ী সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

সংবাদ সম্মেলনে গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার কর ফাঁকি সংক্রান্ত মামলার বিষয়েও আলোকপাত করা হয়, যা নিয়ে সম্প্রতি নানা আলোচনা চলছে। এ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা স্পষ্ট করে জানান যে, এই বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে বিচার বিভাগের এখতিয়ারভুক্ত এবং এখানে সরকারের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত কর পরিশোধ করতে হবে এবং এ নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কাউকে অনুরাগ বা বিরাগের পাত্র বানানোর কোনো অবকাশ নেই। তিনি জানান, আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট পক্ষ আপিল বিভাগে যাওয়ার অধিকার রাখে এবং সেখানে তারা নিজেদের পক্ষে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হলে আদালতের আদেশ অনুযায়ী কর পরিশোধ করতেই হবে।

অন্যদিকে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে বহুল আলোচিত ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির সিন্ডিকেট বা নির্দিষ্টকরণের বিষয়টিও সংবাদ সম্মেলনে আলোচনা করা হয়। ডা. জাহেদ উর রহমান স্পষ্টভাবে জানান যে, রিক্রুটিং এজেন্সির এই নির্দিষ্ট সংখ্যা বা প্রতিষ্ঠানগুলো নির্বাচন করার কোনো ধরনের এখতিয়ার বা ক্ষমতা বাংলাদেশ সরকারের হাতে নেই। কুয়ালালামপুর কর্তৃপক্ষ নিজেরাই এই সংখ্যা ও তালিকা নির্ধারণ করে থাকে, যা নিয়ে সরাসরি বাংলাদেশের করার কিছু থাকে না। তবে দেশের কর্মী ও জনগণের স্বার্থ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সুরক্ষার জন্য নির্ধারিত সেই ২৫ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অন্য এজেন্সিকে সহযোগী হিসেবে যুক্ত করার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *