মৌলভীবাজারে প্রতিদিন ১২-১৪ ঘণ্টা লোডশেডিং, ভোগান্তিতে ৫ লাখ গ্রাহক

তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মৌলভীবাজার জেলাজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীয় হয়ে উঠেছে। জেলা সদরসহ মোট সাতটি উপজেলার প্রায় পাঁচ লাখ গ্রাহককে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা সহ্য করতে হচ্ছে। সপ্তাহের প্রতিদিনই দিনের বিভিন্ন সময়ে এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, শিক্ষার্থী এবং বয়স্ক ব্যক্তিরা এই অসহনীয় গরমে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতাল ও ক্লিনিকের মতো জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি ছোট-বড় কলকারখানা এবং বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজও ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সকাল থেকে শুরু করে দুপুর, সন্ধ্যা এবং গভীর রাত পর্যন্ত সমানতালে বিদ্যুতের আসা-যাওয়া অব্যাহত থাকে। আশ্বিনের এই ভ্যাপসা গরমে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় থাকতে গিয়ে অনেক শিশু ও প্রবীণ ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। শহীদনগর বাজারের এক কারখানা মালিক জানান, দিনরাত নির্বিচারে লোডশেডিং চলার কারণে তারা কোনো কাজই সময়মতো শেষ করতে পারছেন না। এছাড়া ঘনঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার ফলে কলকারখানার দামি যন্ত্রপাতিও প্রায়ই নষ্ট হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

সামনেই শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত পরীক্ষা থাকায় বিদ্যুতের এই লুকোচুরি খেলা তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ফয়ছল আহমেদ নামের এক শিক্ষার্থী আক্ষেপ করে জানান, একদিকে প্রচণ্ড গরম এবং অন্যদিকে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারণে তারা ঠিকমতো পড়াশোনার টেবিলে বসতে পারছেন না। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে বলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সম্প্রতি জেলার বিদ্যুতের চাহিদা পঁচানব্বই মেগাওয়াট থাকলেও বিপরীতে সরবরাহ মিলেছে মাত্র একাত্তর মেগাওয়াট। সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী সুজিত কুমার বিশ্বাস জানান, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের বিদ্যুতের চাহিদা বহুলাংশে বৃদ্ধি পেলেও সেই অনুপাতে উৎপাদন বাড়েনি। তাই সামগ্রিক ব্যবস্থার ভারসাম্য বজায় রাখতেই বাধ্য হয়ে তাদের এই নজিরবিহীন লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই অস্বস্তিকর গরমের পরিস্থিতি খুব শিগগিরই স্বাভাবিক হতে শুরু করতে পারে। শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান জানান, চলতি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে। আবহাওয়া পুরোপুরি অনুকূলে আসলে এবং তাপমাত্রা কমে গেলে তখন বিদ্যুতের চাহিদাও স্বাভাবিক পর্যায়ে নেমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *