যশোর সীমান্তে বিপুল চোরাচালান পণ্য জব্দ করলো বিজিবি

সীমান্ত এলাকায় অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে কঠোর নজরদারির অংশ হিসেবে যশোর সীমান্তে একটি সফল অভিযান পরিচালিত হয়েছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা অভিযান চালিয়ে প্রায় সাড়ে ১৫ লাখ টাকার ভারতীয় বিভিন্ন চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছেন। সম্প্রতি যশোর ব্যাটালিয়ন ও বেনাপোল আইসিপি ক্যাম্পের যৌথ উদ্যোগে এই বিশেষ অভিযানটি পরিচালিত হয়। দেশের সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরনের অবৈধ পণ্য প্রবেশ রোধে বিজিবির এই ধরনের তৎপরতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

অভিযান চলাকালে সীমান্ত এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় পণ্য উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে ১৩৮ পিস ভারতীয় শাড়ি, ৮২ গজ জিন্সের থান কাপড়, ৬৯ প্যাকেট ফুসকা এবং সাড়ে চার কেজি কিসমিস। এছাড়া চোরাচালানের তালিকা থেকে বাদ যায়নি বিভিন্ন প্রসাধন সামগ্রী ও খাদ্যপণ্যও। উদ্ধারকৃত পণ্যের মধ্যে ১৬৫টি চকলেট এবং ৪২৭টি বিভিন্ন ধরনের কসমেটিক্স সামগ্রী রয়েছে বলে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, জব্দ করা এই সমস্ত চোরাচালান পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৫ লাখ ২২ হাজার ৫৯০ টাকা। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে এই অভিযানে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পাচারকারীকে আটক করা সম্ভব হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। চোরাকারবারিরা অত্যন্ত চতুরতার সাথে এসব পণ্য সীমান্ত পার করার চেষ্টা করলেও বিজিবির সতর্ক অবস্থানের কারণে তা ব্যর্থ হয়ে যায়।

এ বিষয়ে যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে গণমাধ্যমকে ব্রিফ করেছেন। তিনি জানান যে, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান মালামাল জব্দ করার পাশাপাশি পাচারচক্রের সদস্যদের আটকে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। দেশের অর্থনীতি ও সমাজ সুরক্ষায় এই ধরনের আভিযানিক কার্যক্রম অত্যন্ত ফলপ্রসূ প্রমাণিত হচ্ছে।

সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বিজিবির ওই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। চোরাচালান চক্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনতে গোেন্দা নজরদারি আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দেশের সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করতে বিজিবির এই ধারাবাহিক ও কঠোর পদক্ষেপ স্থানীয় মহলে প্রশংসিত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *