রাশা ইউসিফের ১৯৫ দেশ ভ্রমণ

বাহরাইনের নারী রাশা ইউসিফ বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশ ঘুরে দেখার এক রোমাঞ্চকর ও কঠিন চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবেলা করেছেন। ভ্রমণের প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং ফটোগ্রাফির প্রতি তীব্র আকর্ষণ তাঁকে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে চলতে উদ্বুদ্ধ করেছে। তাঁর এই দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য যাত্রার সঙ্গী ছিল হিজাব, যা তাঁর কাছে কেবল একটি পোশাক নয় বরং নিজস্ব পরিচয় ও মূল্যবোধের প্রতীক। বিভিন্ন সংস্কৃতি ও জনপদের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি হিজাবকে দেখেছেন নানান ভিন্ন আবহে। নিজের এই অবিস্মরণীয় পথ চলায় তিনি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নারীদের শক্তি ও সংগ্রামের রূপ খুব কাছ থেকে দেখেছেন।

ফটোগ্রাফির হাত ধরেই রাশার বিশ্বভ্রমণের এই বিশাল অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল বলে জানা যায়। আন্তর্জাতিক যুব সম্মেলনের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের সময় তিনি জীবনের প্রথম ক্যামেরা হাতে পান এবং পরবর্তীতে সেই ক্যামেরাই হয়ে ওঠে তাঁর পৃথিবী দেখার মূল বাহন। বিভিন্ন আলোকচিত্র প্রশিক্ষণ ও কর্মশালায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তাঁর ভেতর ভ্রমণের নেশা আরও তীব্রভাবে জেগে ওঠে। পর্যটকের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে একজন আলোকচিত্রীর নিখুঁত দৃষ্টিতে পৃথিবীকে আবিষ্কার করার তাগিদেই তিনি একের পর এক দেশ ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দী হতে থাকে নতুন মানুষ, অচেনা সংস্কৃতি এবং বিচিত্র সব মানুষের জীবনগাথা।

দীর্ঘ এই ভ্রমণযাত্রা মোটেও মসৃণ ছিল না এবং তাঁকে বিভিন্ন সময়ে কঠিন অর্থনৈতিক সংকটের মুখামুখিও হতে হয়েছে। ভ্রমণের ব্যয় মেলাতে তিনি নিজের অনলাইন কমিউনিটির সহায়তা নেওয়ার পাশাপাশি নিজের তোলা ছবির প্রিন্ট বিক্রি করেও অর্থ সংগ্রহ করেছেন। বাহরাইনের সংবাদমাধ্যম এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাময়িকীতে তাঁকে বিশ্বের সব দেশ ভ্রমণকারী প্রথম বাহরাইনি নারী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর এই বিশ্বভ্রমণ কেবল বিমানের টিকিট কাট কিংবা বিলাসবহুল হোটেলে থাকার গল্প নয়, বরং এটি ছিল সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, কঠোর সংগ্রাম এবং স্বপ্নের প্রতি অবিচল বিশ্বাসের এক অনন্য উদাহরণ।

রাশার কাছে ভ্রমণের অর্থ কেবল কোনো দেশের বিখ্যাত ল্যান্ডমার্ক বা স্থাপনা দেখা নয়, বরং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার অভিজ্ঞতা অর্জন করা। বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের সময় হিজাব পরা নিয়ে মানুষের নানা কৌতূহল তাঁকে নিজের সংস্কৃতি ও পরিচিতি নিয়ে খোলামেলা আলোচনার সুযোগ করে দিয়েছে। যদিও তাঁর ভ্রমণ করা মোট দেশের সংখ্যা নিয়ে সামান্য ভিন্নতা রয়েছে, তবুও তাঁর এই বিশাল অর্জন সামান্যতম ম্লান হয় না। সীমান্ত পেরিয়ে ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে মেশার এবং নিজস্ব পরিচয় অক্ষুণ্ণ রেখে বিশ্বকে জয় করার রাশার এই গল্প বিশ্বজুড়ে অনেক নারীকেই দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *