রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে কাজ করছে যুক্তরাজ্য: ব্রিটিশ হাইকমিশনার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া নিয়ে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে পুনর্বাসনের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হলে রোহিঙ্গারা যাতে নির্বিঘ্নে নিজেদের ভিটেমাটিতে ফিরে যেতে পারেন, সে লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে ব্রিটিশ সরকার। সম্প্রতি টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে একটি ধর্মীয় উৎসবের প্রাক্কালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক এই দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

রোহিঙ্গা সংকটের শুরু থেকেই মানবিক সহায়তা প্রদানে যুক্তরাজ্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে বলে উল্লেখ করেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ এই সংকটের সময়ে গত নয় বছরে বাংলাদেশ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহায়তায় যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ৪৬০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। এই দীর্ঘমেয়াদী মানবিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানের দীর্ঘমেয়াদী পথ খুঁজে বের করতেও ঢাকা ও লন্ডনের মধ্যকার যৌথ প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।

রোহিঙ্গা সংকটের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন সারাহ কুক। তিনি জানান যে, দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধুত্বের বন্ধন অত্যন্ত গভীর এবং যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা এই সম্পর্ককে আরও অর্থবহ করে তুলছেন। বাংলাদেশের ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রগুলোতেও ব্রিটিশ সরকার ও বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান অংশীদার হিসেবে একসঙ্গে কাজ করে চলেছে।

এদিকে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের এই টাঙ্গাইল সফরকে কেন্দ্র করে কুমুদিনী কমপ্লেক্স ও রণদা প্রসাদ সাহার ঐতিহাসিক পূজামণ্ডপ চত্বরে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ঐতিহ্যবাহী কুমুদিনীর দুর্গাপূজার বর্ণিল আয়োজন, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন তিনি। এর আগে কুমুদিনী কমপ্লেক্সে পৌঁছালে কর্তৃপক্ষ তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায় এবং পরে তিনি ঐতিহ্যবাহী কুমুদিনী লাইব্রেরি ও পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *