র‍্যাব বিলুপ্ত, নতুন বাহিনী এসআরবি: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী র‍্যাব বিলুপ্ত ঘোষণা করে এর পরিবর্তে নতুন একটি বিশেষ বাহিনী গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ নিয়ে আলোচনা চলাকালে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই অধিবেশনে নতুন এই ব্যাটালিয়ন গঠনের নেপথ্য কারণ ও আইনি প্রক্রিয়া বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই র‍্যাব বিলুপ্ত করার এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

সংসদে বিলটি নিয়ে আলোচনার সময় বিরোধী দলের পক্ষ থেকে নানা প্রশ্ন ও সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। বিশেষ করে পর্যাপ্ত পরামর্শ ছাড়াই তড়িঘড়ি করে বিল পাস করা হচ্ছে কি না এবং র‍্যাব থেকে নতুন বাহিনীতে সম্পদ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানান বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। এ ছাড়া বিলটির বিভিন্ন ধারা ও অভিযোগ প্রতিকার কমিটির কার্যকারিতা নিয়ে বিরোধী দলের নোট অব ডিসেন্টের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের এসব অভিযোগ খণ্ডন করে জানান যে বিলটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা হয়েছে এবং জনমতের জন্য তা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছিল।

বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষ্কার করে জানান যে এসআরবি কোনোভাবেই র‍্যাবের ধারাবাহিকতা বা রূপান্তর নয়, বরং এটি একটি সম্পূর্ণ নতুন বাহিনী। র‍্যাব বিলুপ্তির পর রাষ্ট্রের মূল্যবান অস্ত্র, সরঞ্জাম এবং অন্যান্য সম্পদ নষ্ট না করে নতুন এই সংস্থায় হস্তান্তর করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, নতুন বাহিনী গঠিত না হলে অপ্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় হতো এবং একই সঙ্গে পূর্বের সংস্থার অস্তিত্ব জিইয়ে থাকত। আইন পাস হওয়ার মধ্য দিয়ে র‍্যাবের আনুষ্ঠানিক বিলুপ্তি ঘটবে এবং এসআরবি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

নতুন এই ব্যাটালিয়নের কোনো সদস্য অপরাধে জড়াল বা অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনা ঘটলে তার বিচার কীভাবে হবে, সে বিষয়েও সংসদে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিলে থাকা ধারা ২৪ অনুযায়ী গঠিত অভিযোগ প্রতিকার কমিটি কেবল অভ্যন্তরীণ সংকট ও বাইরের কোনো ব্যক্তির করা ছোটোখাটো অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য কাজ করবে। এটি কোনো ফৌজদারি অপরাধের বিচারিক আদালত নয় এবং গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ীই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সবশেষে, বর্তমান সময়ের অপরাধ মোকাবিলায় সাইবার অপরাধ দমনকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *