‘লালনের জীবনদর্শন ছড়িয়ে পড়ুক সারা দেশে’

জাতীয় ডেস্ক: ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় তিন দিনব্যাপী স্মরণোৎসব শুরু হয়েছে। এই আয়োজনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি তাঁর বক্তব্যে মরমী সাধক লালন শাহের জীবনদর্শন ও আদর্শ দেশের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি আমাদের দেশের অন্যান্য গুণী সাধক ও দার্শনিকদের জীবন ও কর্ম মানুষের মাঝে যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে লালন শাহের দর্শনের গভীরতা ও প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, লালন সাঁই তাঁর সহজ-সরল বাণীর মাধ্যমে মানবজাতির জন্য অনন্য শিক্ষা রেখে গেছেন। তাঁর দর্শনের মূল ভিত্তি ছিল মানবতাবাদ, যেখানে তিনি মানুষকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছেন। ধর্ম, বর্ণ, গোত্র কিংবা জাত-পাতের কোনো ভেদাভেদ না করে তিনি মানুষকে কেবল মানুষ হিসেবেই মূল্যায়ন করেছেন। বর্তমান সময়ে সমাজের নানা স্তরে ভেদাভেদ দূর করতে লালনের এই অসাম্প্রদায়িক শিক্ষা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

কুষ্টিয়া অঞ্চলের উন্নয়নে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, এই জনপদকে অচিরেই একটি পূর্ণাঙ্গ ‘লালন নগরী’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে পর্যটনশিল্পের ব্যাপক বিকাশ ঘটবে এবং অর্থনৈতিক সচ্ছলতা আসবে। এছাড়া গড়াই ও মধুমতী নদীতে আবারও নিয়মিত নৌকা চলাচলের ব্যবস্থা করতে বর্তমান সরকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। এই অঞ্চলের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এবং পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে এসব উদ্যোগ ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, লালনের শিক্ষা কেবল সাধু-সন্তদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা স্কুলের শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং স্কুলভিত্তিক কোনো কর্মসূচি আছে কি না, সে বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন। আজকের সংঘাতময় বিশ্বে পরিচয়কেন্দ্রিক বিভেদ দূর করতে লালনের মানবতাবাদী দর্শন অত্যন্ত উপযোগী বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও লালন একাডেমির সভাপতি মো. তৌহিদ বিন হাসানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী এবং কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে মূল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক অধ্যাপক ড. রশিদুন নবী, যিনি লালন দর্শনের নানাদিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লালনভক্ত সাধক ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে ছেঁউড়িয়ার মাজার প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *